গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন আলহাজ মাওলানা আব্দুল মতিন। দীর্ঘ শিক্ষকতা ও শিক্ষা প্রশাসনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়, ইনসাফ, বৈষম্যহীনতা ও উন্নয়নের ভিত্তিতে একটি আধুনিক বরমী ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মাওলানা আব্দুল মতিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় মঙ্গলবাড়ীয়া কামিল মাদ্রাসায়। তিনি ১৯৭২ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে দাখিল, ১৯৭৪ সালে ভাংনাহাটি রহমানিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম, ১৯৭৬ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ফাজিল এবং ১৯৭৯ সালে আব্বাসিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেন।
কর্মজীবনে তিনি ১৯৮১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বরামা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে বর্তমানে তিনি অবসর জীবনযাপন করছেন। শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বরমী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। এছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ, গাজীপুর জেলার সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রচারপত্রে ‘ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন ও উন্নত বরমী ইউনিয়ন গড়তে বদ্ধপরিকর’—এমন প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই স্লোগান সামনে রেখে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা চাইছেন।
নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মাওলানা আব্দুল মতিন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
কৃষকদের জন্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা এবং কৃষকের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা বলেন।
মাদক, কিশোর গ্যাং, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম-ওলামা, যুবসমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ে তোলার কথাও জানান।
মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পেতে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজ ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করে জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায়ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে চান। একটি মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আধুনিক ও উন্নত বরমী ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা চৌরাস্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, “চেয়ারম্যানের পদকে আমি ক্ষমতার আসন হিসেবে নয়, জনগণের সেবা করার দায়িত্ব হিসেবে দেখতে চাই। বরমী ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখের পাশে থেকে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। উন্নয়নের সুফল যেন ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ পায়, সেটিই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “বরমী ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও উন্নত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের পরামর্শ ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বরমীতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলহাজ মাওলানা আব্দুল মতিনের প্রচারণাও স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় এসেছে।