গাজীপুরে হরিজন সম্প্রদায়ের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া। তাঁর এই উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।
সামাজিক বৈষম্য ভেঙে মানবিকতা ও সমতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়ার এই ব্যতিক্রমী অংশগ্রহণ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
জানা যায়, তিনি কনে পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য শ্রীমতী প্রীতি রানী বাসফোরের বিয়েতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কনে প্রীতি রানী বাসফোরের পিতা শ্রী রতন বাসফোর গাজীপুর মহানগরের বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের একজন সক্রিয় কর্মী এবং দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্ত্রী স্বর্গীয়া সীমা রানী বাসফোরও জীবদ্দশায় গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তারা কন্যাকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন, বর্তমানে প্রীতি রানী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা একটি জনগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের এই উপস্থিতিকে স্থানীয়রা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে প্রচলিত ভেদাভেদ দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা জোরদার করে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, 'ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী বা পেশার ভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্র সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। আমরা চাই গাজীপুরে এমন একটি সমাজ গড়ে উঠুক যেখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। প্রতিটি মানুষ সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো পেশাই ছোট নয়, সকল কাজই সম্মানের।'
তার এই মানবিক অবস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছে, এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।