হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের একদিন পরই আবারও ফুটপাত দখল করে হকার বসার অভিযোগ উঠেছে। হাটহাজারী মডেল থানার সামনেসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। বাধ্য হয়ে অনেককে পাকা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হাটহাজারীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনার আশপাশ পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত রাখা হয়েছিল। ফুটপাতও ছিল অনেকটা ফাঁকা। কিন্তু সফরের একদিন না যেতেই আজ সকাল থেকে আবারও ফুটপাতের ওপর হকারদের বসতে দেখা যায়। এতে আগের চিত্র ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মোঃ রায়হান নামে এক পথচারী বলেন, “বাজারে এসে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারছি না। হকারদের দখলে থাকায় পাকা সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ফুটপাতটি দ্রুত দখলমুক্ত করা জরুরি।”
স্থানীয়রা জানান, শুধু থানার সামনেই নয়, হাটহাজারীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও ব্যস্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করে আসছেন। ফলে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে মূল সড়কে নেমে চলাচল করছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে যদি একদিনের মধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য সারাবছর একই ব্যবস্থা কেন রাখা যাবে না?
ফুটপাত দখলের নেপথ্যে কারা হকারদের বসার সুযোগ করে দিচ্ছে এবং এর বিনিময়ে কেউ কোনো ধরনের অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই হবে না; ফুটপাত পুনরায় দখলের নেপথ্যে কারও যোগসাজে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ারও দাবি রয়েছে। এতে হকারদের জীবিকা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাতও উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর উচ্ছেদ কার্যক্রমের মাধ্যমে হাটহাজারীর সব ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ কোনো অতিথির আগমনকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে নয়, সাধারণ মানুষের স্বার্থে স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।