কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সার বিতরণের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা। এরপর পুলিশ, বিজিবি ও আনসান সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট বাজারে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার পয়েন্ট মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সে সার নিতে এসে কৃষকেরা জানতে পারেন, ওই দিন সার বিতরণের কথা নেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টের সামনে সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনসহ পুলিশ ও সোনাহাট ক্যাম্পের বিজিবির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার বিতরণের আশ্বাসে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্স থেকে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

মেসার্স রাকিবুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হয়রত আলী বলেন, “সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী আমি ২৩৫ বস্তা ডিএপি, ৯৫ বস্তা টিএসপি ও ৯০ বস্তা এমওপি সার উত্তোলন করেছি। বুধবার আমাদের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের কথা ছিল না। হঠাৎ শতাধিক কৃষক বিক্ষুব্ধ আচরণ করলে প্রশাসনের সহায়তায় সার বিতরণ করা হয়।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, বুধবার রাকিবুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের দিন নির্ধারিত ছিল না। সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জনার্দন ট্রেডার্সে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণের কথা ছিল। তবে কৃষকেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দুটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই।