ঢাকা আইনজীবী সমিতির সর্বশেষ নির্বাচনকে ঘিরে জাল ভোট, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সর্বশেষ নির্বাচনকে ঘিরে জাল ভোট, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল।ঢাকা আইনজীবী সমিতির সর্বশেষ নির্বাচনকে ঘিরে জাল ভোট, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল।
শুক্রবার (১ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এ অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন গঠনে অসামঞ্জস্য থাকায় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন বুথে জাল ভোট প্রদান ও ভোট টেম্পারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ভোটার ভোট দিতে গিয়ে দেখেন, তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।
মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ঐতিহ্য, নিয়ম ও রেওয়াজ অনুযায়ী নতুন প্যানেলে নির্বাচন হলে সবার মতামতের ভিত্তিতে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনীত হন এবং উভয় প্যানেল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য (৫ জন করে) নিয়ে ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে ১০০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কিন্তু ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী বছরের নির্বাচনের জন্য বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সর্বমোট ৯০ জন এবং বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেল থেকে ৪১ জন সদস্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, যা নির্বাচন শুরুর আগেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফলে নির্বাচন কমিশন গঠনে সমতা নিশ্চিত করা হয়নি।
এ বিষয়ে বার কাউন্সিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধা নিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে।
তিনি আরও জানান, ভোটগ্রহণে এসব অনিয়মের কারণে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভোটারদের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক ভোটার এসে দেখেন, তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের কারণে আইনজীবীদের কাছে এই নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হয়নি।
বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভোট গণনার ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। সার্বিকভাবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়নি।
অনিয়মের মাঝেও যারা নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সম্মানিত আইনজীবী ভাই-বোনদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল) এবং বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলে জানানো হয়।
আইন অঙ্গনের সব ধরনের বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান আকন্দ।
যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং ভোটারদের রায়কে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হতে দেয়নি, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।