আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কথোপকথনের দুটি অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে ফোনালাপ দুটির লিখিত অনুলিপিও প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এসব অডিও ও অনুলিপি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এ সময় ফোনালাপগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে এই কথোপকথনগুলো হয়েছিল।
প্রথম ফোনালাপটি ঘটে ১৯ জুলাই দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে, যেখানে শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদের মধ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পাল্টা আঘাত’ ও আগুন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের বাড়ি-গাড়িতে পাল্টা আগুন দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, ‘তোরাও পুড়াবি, আয় আমরাও পুড়াব।’
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ শেখ হাসিনার এই কঠোর অবস্থানকে ‘টিট ফর ট্যাট’ বলে সমর্থন জানান। একই ফোনালাপে হাছান মাহমুদ গায়েবানা জানাজা শেষে ১০ মিনিটের মধ্যে মহল্লায় ফিরে যাওয়ার কথা বললে,
শেখ হাসিনা তা সংশোধন করে নির্দেশ দেন যে দলীয় নেতাকর্মীদের যার যার এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতেও তাগিদ দেন তিনি।
পরবর্তী ফোনালাপে যুক্ত হন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেতু ভবনে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা সেখানে দ্রুত র্যাব পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি আন্দোলনে জড়িতদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানার পরিকল্পনা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দেবে।’
আন্দোলনকারীদের মালিকানাধীন কী কী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্যও তিনি ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন।