গুমসহ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে একদিন করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিত ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। দুজনকেই গতকাল ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, এ মামলায় ফজলে করিম ও জিয়াউলকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের দিন ধার্য ছিল। আমরা তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছি। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে একদিন করে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাই। পরে দুটি আবেদনই মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ সময় ফজলে করিমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও জিয়াউলের পক্ষে ছিলেন নাজনীন নাহার।

এছাড়া এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময়ের আবেদন করে প্রসিকিউশন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২১ জুন প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০১০ সালে চট্টগ্রামের রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে তুলে নেওয়া হয়। গুমের পর তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফজলে করিম ও জিয়াউলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বির¤œদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদ।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজর¤œল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিত ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ মামলায় ২৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন নাসের উদ্দিন। তিনি এ ঘটনায় তদন্তকালীন কী কী জব্দ করেছেন, তা ট্রাইব্যুনালে পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলে ধরেন। কোন দিন, কোন সময়ে এসব জব্দ করা হয়েছে, তা লিপিবদ্ধ করা হয়। তবে জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা।

এ মামলার সব আসামিই পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই চলছে বিচারকাজ। এরই মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শীসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকা-ের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।