সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার রামচন্দ্রপুর থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের প্রধান মো. আব্দুল হাকিম জোমাদ্দার ওরফে ‘হাইক্কা ডাকাত’কে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। এ সময় তাঁর কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়াকিটকি সেটও উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে মিরপুরে র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. নাজমুল ইসলাম।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ ও র্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের একটি যৌথ দল সাভার মডেল থানাধীন হেমায়েতপুরের রামচন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালায়। ওই এলাকায় অস্ত্রধারী কিছু সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আব্দুল হাকিম জোমাদ্দারকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার আব্দুল হাকিম একটি সংঘবদ্ধ চক্রের প্রধান। এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় কখনো ডিবি পুলিশ আবার কখনো র্যাবের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছিল।
উদ্ধার করা অবৈধ অস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
র্যাবের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ১৩ মাস আগে টাঙ্গাইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আব্দুল হাকিম। পরবর্তীতে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে ১৮টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তার আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।