গাজীপুরের শ্রীপুরে কিস্তির ১৪ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শ্বশুরবাড়িতে রুহুল আমীন (৩৮) নামের এক সিএনজিচালকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কোমারভিটা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রুহুল আমীনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত রুহুল আমীন ওই এলাকার মো. আতাহারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমীন দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিজের শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে তিনি সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন এবং রাতে আর ফেরেননি। পরে শনিবার সকালে শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি স্থানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

নিহতের বোন ফাতেমা অভিযোগ করে জানান, কিস্তির ১৪ হাজার টাকা নিয়ে শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে রুহুলের তীব্র ঝগড়া হয়েছিল। এরপর তাকে বেদম মারধর করে বাড়ির পাশে ফেলে রাখা হয় বলে তারা জানতে পেরেছেন। নিহতের বড় ভাই লিটনও একই অভিযোগ করে বলেন, কিস্তির টাকার বিরোধের জেরে রুহুলকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পরবর্তীতে তা নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে সাজানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিহতের স্ত্রী হালিমা খাতুন, মেয়ে রিমি ও শ্বশুর রফিক ফকির দাবি করেছেন, রাতে কোনো ধরনের ঝগড়া বা মারামারির ঘটনা ঘটেনি। শ্বশুর রফিক ফকিরের ভাষ্যমতে, রাতে রুহুল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি এবং সকালে গরু বের করতে গিয়ে বাড়ির পাশে তার মৃতদেহ দেখতে পান তিনি।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী হালিমা খাতুন, শ্বশুর রফিক ফকির, মেয়ে রিমি, শ্যালক শাজাহান ফকির ও চাচা শ্বশুর তাজ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে রুহুল আমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনদের অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।