# সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না- আইনমন্ত্রী
আইনজীবীদের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করার বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নাকি দলীয়করণ করার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে? এ প্রশ্নে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৪ আসসের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রশ্ন করেন, নির্বাচন স্থগিত জ্বালানি সংকট ইস্যু নাকি একটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ? তবে বার কাউন্সিল নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং তারা তাদের নিজস্ব প্রজ্ঞা ও স্বাধীনতা প্রয়োগ করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আখতার হোসেন জানতে চান, গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তোলনের জন্য একটা নির্বাচনের ১৯ মে সময়সীমায় ঘোষণা করা হয়েছিল। নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হবে কিন্তু গত মধ্যরাতে হঠাত করে সে নির্বাচনকে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
প্রশ্ন হল আমরা যখন সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা বলছি, তখন সরকার দলের তরফ থেকে জ্বালানি সংকট নিয়ে এক কথা বলা হয়, আবার সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান তারা নির্বাচন স্থগিত করছে জ্বালানি সংকটের কথা বলে। এই জায়গাটাতে একটা সিদ্ধান্ত আসা প্রয়োজন আসলে কী জ্বালানি সংকটের ইস্যু নাকি একটা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ৷
আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচন স্থগিতকরণের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট। এই কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হলো। এখানে দুই ধরনের বিষয় রয়েছে। এক এটা একটা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। যেটার সাথে আইন মন্ত্রণালয়ের একটা সংযোগ আছে। আবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় তাদের একটা কজ দেখিয়ে নির্বাচনটাকে স্থগিত করা হয়েছে। আপনি (স্পিকার) জেনে থাকবেন। যে যারা লিগাল বাংলাদেশ লিগাল প্র্যাক্টিশনার এবং বার কাউন্সিল অর্ডারের বিধান অনুযায়ী তিন বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা। যদি নির্বাচন করার মত পরিবেশ না থাকে অর্থাৎ প্যান্ডেমিক হয় বা একটের মত কোন ধরনের দুর্যোগ ঘটে সে সময়টাতে এক বছরের জন্য একটা কমিটির বিধান করোনার সময়টাতে করা হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার পরে সেই জায়গাটাতে কোনও একট বা প্যান্ডেমিক না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন না দিয়ে তখন একটা অ্যাডহক কমিটি করা হয়। সেই কমিটি এখনও পর্যন্ত চলমান রয়েছে। সেই কমিটি থেকে একটা গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তোলনের জন্য একটা নির্বাচনের সময়সীমায় ঘোষণা করা হয়েছিল ১৯ মে।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ সদস্য আপনার মূল বক্তব্যটা বুঝতে পেরেছি, এটা কার্যবিবরণীতে আনার জন্য ভালো হবে রেকর্ড থাকবে। আপনি দয়া করে একটা নোটিস দেন।
আখতার হোসেন তখন বলেন, আমরা নোটিশ নিয়ে আসবো। কিন্তু যেহেতু আজকে জ্বালানি মন্ত্রী উপস্থিত আছেন, আইনমন্ত্রী উপস্থিত আছেন, আপনি চাইলে তাদের থেকে এই বিষয়ে একটা সুরাহা, তাদেরকে একটা বিবৃতি দেওয়ার জন্য আহ্বান করতে পারেন।
বার কাউন্সিল নির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না: আইনমন্ত্রী
বার কাউন্সিল নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং তারা তাদের নিজস্ব প্রজ্ঞা ও স্বাধীনতা প্রয়োগ করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন। তিনি প্যান্ডেমিক এবং অ্যাক্ট অব গড এর কথা বলেছেন। কিন্তু আইনের মধ্যে যে অন্যান্য যুক্তিসঙ্গত কারণ বিষয়টি আছে, সেটি তিনি আনেননি। উনি যতটুকু উনার প্রয়োজন ততটুকুই এনেছেন, এর বাইরে একটুও আনেননি।
এ সময় রসিকতা করে আইনমন্ত্রী একটি কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘তুমি সব বুঝো মানি, যতটুকু বুঝো না ততটুকুই আমি।’
বার কাউন্সিল নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই বার কাউন্সিলের নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ মাস যখন নির্বাচন হয়নি, তখন আমরাই উদ্যোগ নিয়েছি। বার কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।
নির্বাচন পেছানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ এসেছিল। বিশেষ করে এশিয়ার বৃহত্তম বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা বারের নির্বাচন সামনে থাকায়, সেই প্রক্রিয়াকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতেই বার কাউন্সিল নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা বারে ২২ হাজারের বেশি আইনজীবী আছেন। তাদের অনুরোধ রক্ষা করে বার কাউন্সিল তাদের নিজস্ব মেধা ও স্বকীয়তা প্রয়োগ করেছে। আমরা সেখানে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। আমরাও চাই বার কাউন্সিল একটি স্বাভাবিক ও স্বাধীন নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাক।
বিরোধীদলীয় সদস্যের উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার বার কাউন্সিলের স্বায়ত্তশাসনে বিশ্বাসী এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমেই এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে।
আ’লীগ আমলে স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করলে শাস্তিমূলক বদলি করা হতো : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করতেন, সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির মাধ্যমে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো।’’
গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব বলেন।
শাহজাহান চৌধুরী লিখিত প্রশ্নে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ হতে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে কী কী আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ছিল এবং সেই সময়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ ছিল, সেই ব্যাপারে বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন কী?
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে, ফ্যাসিস্ট সরকার বিচারকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যকে মুখ্য মানদ- হিসেবে ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে দলের প্রতি অনুগত বিচারকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করতো এবং যারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার চেষ্টা করতেন, সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির মাধ্যমে কার্যত শাস্তি দেওয়া হতো।’’
অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০,৪১,৯২৪টি
গত বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০,৪১,৯২৪টি এবং এই বিশাল সংখ্যক মামলা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানানএ
আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০,৪১,৯২৪টি। এই বিশাল সংখ্যক মামলা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, মামলার জট নিরসনে ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত সৃজন এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃজন করা হয়েছে। আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃজনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন এবং ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে এবং আরও ৫৫৩ জন কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন এবং এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সচেতন এবং এ লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর পূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিগত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য বর্তমান সরকার ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করে। কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যসহ যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যে কোন ধরনের রাজনৈতিক (হত্যা মামলাসহ) মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে গঠিত জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি মামলাগুলো পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় কোনো মামলা রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক বলে প্রতীয়মান হলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার প্রদানে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আওয়ামী আমলের বিসিএস নিয়োগ খতিয়ে দেখছে সরকার
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস-এর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।