জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার এবং সারাদেশে ধর্ষণ ও শিশুহত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’-এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ওপর সংঘটিত ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার নয় দিন পার হলেও এখনো অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতি বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আফিয়া ইবনাত সামিহা বলেন, “আমাদের এক বোন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন। কিন্তু বিচার চাইতে গিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা স্পষ্ট কোনো জবাব পাইনি। এখনো অপরাধীর সুনির্দিষ্ট পরিচয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে শিশু হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব ঘটনার দায় রাষ্ট্র ও বিচার ব্যবস্থাকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী। তিনি বলেন, “ঘটনার নয় দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রশাসনের কাছে তদন্তের আপডেট জানতে চাইলেও আমরা সন্তোষজনক উত্তর পাইনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণেই অপরাধী এখনো শনাক্ত হয়নি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা অবকাঠামোর দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, “বর্তমানে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তাকর্মী নেই। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলুক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দ্রুত অপরাধী গ্রেফতার, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসে স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান।