ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও পর্দা নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্যের অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষি বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী বেগমকে সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) এই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্টারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২৬১ ব্যাচের একটি ইন্ট্রোডাকশন ক্লাসে পর্দা করা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন ওই শিক্ষিকা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পর্দা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আজান ও পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াতকে “গানের সুর”-এর সঙ্গে তুলনা করেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, “পর্দা কোনো বন্দিত্ব নয়, এটা আমার বিশ্বাস ও আমার অধিকার। একজন মেয়ে তার বিশ্বাস অনুযায়ী চলবে কি না, সেই প্রশ্ন তোলার অধিকার কোনো শিক্ষকের নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ক্লাসে আমাদের আলাদাভাবে টার্গেট করে বিব্রত করা হয়েছে। আজান ও কোরআনের তেলাওয়াতকে গানের সুরের সাথে তুলনা করা অত্যন্ত আঘাতমূলক।”

ঘটনার পর এগ্রিকালচার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রে বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরও সংযুক্ত করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ড. ফেরদৌসী বেগমকে কৃষি বিজ্ঞান অনুষদের কৃষি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।