ববি সংবাদদাতা: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদল ইউনিটের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কে মাছের গাড়ি আটকিয়ে চাঁদাবাজি, জমি দখল, বালু ভরাট এবং পারিবারিক বিভিন্ন ঘটনার সালিশ-মিমাংসার নামেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে খোদ ইউনিটেরই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে পটুয়াখালী থেকে আসা চিংড়ির রেণুবাহী একটি গাড়ি বরিশাল জিরো পয়েন্ট থেকে ধাওয়া করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডে আটকে দেওয়া হয়। গাড়ি আটকে বাসের হেল্পার ও ড্রাইভারকে মেরিন একাডেমির নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পোনার মালিকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে বিকাশের তিনটি নম্বরে মোট ৯৫ হাজার টাকা এবং নগদ ৫ হাজার টাকাসহ মোট ১ লাখ টাকা দিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। বিকাশের লেনদেনের একাধিক স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

উক্ত চাঁদাবাজির ঘটনা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ সাকিন বলেন,"কত আবেগ নিয়ে রাজনীতিটা করছিলাম। ১১ বছর রাজনীতি করেছি, বদনামের পরিমাণ খুবই সীমিত ছিল। এখন কতগুলো চাঁদাবাজের হাতে রাজনীতি চলে গেছে। ওরা ইউনিটের সাথে দলকেও ডুবাবে।"

ববি ইউনিটকে কলঙ্কিত করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান সিফাত লেখেন "বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি করি— এটা যেন গর্বের সাথে বলতে পারি।"

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাখা ছাত্রদলের একজন সহ-সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'একটি কমিটির 'সুপার ফাইভ' যে একযোগে চাঁদাবাজির সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেছে, এমন ঘটনা ইতিহাসে বিরল। মাছের পোনা আটকানো, জমি দখল, সালিশি—এমন কোনো অপকর্ম নেই যা এরা করে না। কিছুদিন পূর্বে জাটকা ধরতে গিয়ে এরা সেনাবাহিনীর হাতেও ধরা পড়ে। সবথেকে যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম বিপুল অর্থের বিনিময়ে একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করে। এখন সেই টাকা তো এদের উত্তোলন করতেই হবে! এমনকি এই চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ভাগ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমও পায়, তাই তারা বরাবরের মতোই চুপ। এবারও এদের কিছুই হবে না, মিলিয়ে নিয়েন।

তিনি আরো বলেন,"এই পোনার মূল সমন্বয়কারী মিয়া বাবুল ও মিঠুন। এরা সভাপতি মোশাররফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানের অধীনে সবকিছু করে, এরা ছাত্রলীগ করতো বলে সব লাইনঘাট চেনা, তাইতো ছাত্রদলের ৪ নম্বর সহ-সভাপতির মত গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়।''

শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাকিব আল হাসান তার টাইম লাইনের পোস্টে লেখেন,"বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল একটি আবেগের জায়গা। দুর্দিনের এই সুন্দর ইউনিটটা যারা নষ্ট করার নোংরা খেলায় নামছে, তাদের সাথে অন্তত আমার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।"