ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের প্রভোস্টের কার্যালয়ে শিক্ষক ও হল সংসদের প্রতিনিধি বৈঠক চলাকালে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনায় পদত্যাগ করেন হলের প্রভোস্ট।
আজ রোববার হল প্রভোস্টের কক্ষে শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এক তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ, গত ২৭ জুন শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের এজিএসের কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থান-সংক্রান্ত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক সভা চলাকালে ছাত্রদলের কয়েকজন সক্রিয় কর্মী বেআইনিভাবে কক্ষে প্রবেশ করে হামলা চালান। এছাড়া প্রভোস্ট ভবনের বাইরে ছাত্রদলের বহিরাগত ও সংগঠিত অবস্থানের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে শিবিরকর্মী জায়েদ তালহার ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চড়াও হয়। তাকে নির্মমভাবে মারধর করে প্রভোস্টের কক্ষের এক কোণে ফেলে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়।
ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে চারজন হাউজ টিউটর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রভোস্টের কক্ষে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। তারা হল সংসদের প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা পরিচালনা করে। এ সময় হামলার ভিডিও ধারণ করার কারণে হল সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক খাদেমুল ইসলামের ওপরও প্রভোস্টের কক্ষেই পুনরায় হামলা চালানো হয়।
এছাড়া, এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত জুনায়েদ আবরারের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তাওকির হাসানের ওপরও শারীরিক হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকারী প্রক্টর নূর আলম সিদ্দিকী ও উপস্থিত শিক্ষকদের সামনেই এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা সংঘটিত হয়। তবে তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হন।
এ বিষয়ে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. তাওকির হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগই প্রমাণ করে যে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তিনি হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রভোস্টের কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা পরিচালনাকারী ছাত্রদলের চিহ্নিত সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী স্থায়ী বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এবং অপরাধীদের প্রতি নমনীয় অবস্থান গ্রহণকারী সহকারী প্রক্টর নূর আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসমুক্ত, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্রুত নতুন, কার্যকর ও দক্ষ হল প্রশাসন গঠন করার আহবান জানান। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো দলীয় সন্ত্রাস কিংবা পেশিশক্তির আখড়ায় পরিণত হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল সংসদ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে।