সিলেট ব্যুরোঃ সিলেট কৃষি বিশ্বদ্যিালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিএনপি পন্থী শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের ৫ শিক্ষকসহ মোট ৯ জন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রারের কাছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন- এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, ঢাকার গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং ডেপুটি রেজিষ্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন।
পদত্যাগের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন পদত্যাগকারীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ভিসি অপসারণ দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়োগ ও আর্থিক কর্মকা-ে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে আসছে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের যখন-তখন শোকজ করা ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তারা আরও জানান, আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা নেই- এমন ব্যক্তিদেরও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ভাইস চ্যান্সেলরের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেন তারা।
পদত্যাগকারী শিক্ষকদের অন্যতম প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলরকে দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।’
এদিকে শিক্ষকদের আনা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা সবাই যোগ্যতাসম্পন্ন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। একইভাবে আর্থিক ক্ষেত্রেও কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।’