কৃষি, পল্লি উন্নয়ন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) ও সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। শিগগিরই এমওইউ স্বাক্ষরের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উভয় প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল সভাকক্ষে এমওইউ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঐকমত্যে পৌঁছান সিরডাপের মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর ও গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে গাকৃবির শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক অগ্রযাত্রার ওপর একটি ভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অর্জন ও সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

পরে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় কৃষি ও পল্লি উন্নয়নে সমন্বিত গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গাকৃবি শুধু কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, দেশের পল্লি ও কৃষির বাস্তব সমস্যার সমাধানে জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব দিতে চায়। সিরডাপের সঙ্গে এই সহযোগিতা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।”

সিরডাপের মহাপরিচালক ড. পি. চন্দ্র শেখর বলেন, “গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রা আমাদের মুগ্ধ করেছে। সিরডাপ ও গাকৃবির অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে একত্র করা গেলে এ অঞ্চলের পল্লি উন্নয়ন, কৃষি ও মানবসম্পদ বিকাশে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে সিরডাপের মানবসম্পদ ও প্রশাসন শাখার প্রধান এফ.এ.এম জাকিরুল হক উপস্থিত ছিলেন। গাকৃবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা।

আলোচনা শেষে সিরডাপের মহাপরিচালক গাকৃবির মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম ও ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এমওইউ স্বাক্ষরিত হলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন, শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও বিভিন্ন প্রকল্পে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি কৃষি ও পল্লি উন্নয়নভিত্তিক গবেষণালব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পল্লি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহযোগিতার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালে সিরডাপ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য দেশ ১৫টি।