জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অম্লান রাখার প্রত্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ‘জুলাই নির্ভীক’ নামে একটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ডাকসু প্রাঙ্গণে শহীদ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা, শহীদ সোহেলের বাবা, শহীদ দ্বীন ইসলামের বাবা, শহীদ রমিজ উদ্দিনের বাবা, শহীদ সাইদুল ইসলামের মা, শহীদ জহিরুল ইসলাম শুভর মা এবং শহীদ তাহের জামান প্রিয়র মাকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

এর আগে গত ৫ আগস্ট প্রায় ৫০ জন শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন মো. ইকবাল হায়দার। তিনি স্থাপনাটির ভাবনা তুলে ধরে বলেন, স্মৃতিস্তম্ভের ভাঁজকরা ধাতব কাঠামো ক্ষতবিক্ষত হলেও ভেঙে পড়েনি; রুক্ষ হলেও দুর্বল নয় এবং আঘাতপ্রাপ্ত হলেও নত নয়। ঊর্ধ্বমুখী এই কাঠামো জুলাইয়ের নির্ভীক চেতনার একটি স্থায়ী স্থাপত্যিক অভিব্যক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “‘জুলাই নির্ভীক’ কেবল একটি মনুমেন্ট নয়, এটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অনড় অবস্থানের প্রতীক। এখান থেকেই শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরবে, এখান থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যেন কোনো নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয় এবং ক্যাম্পাসে গণরুম বা গেস্টরুমের জুলুম ফিরে না আসে, সে বিষয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি শিক্ষার্থীদের নির্ভীক থাকার অনুপ্রেরণা দেবে। স্মৃতিস্তম্ভের বৃত্তাকার কাঠামো ঐক্যবদ্ধ শক্তির বার্তা বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, “বাংলার জমিনে যতদিন শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে না এবং তাঁদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে না উঠবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম থামবে না। যে জমিনে শহীদদের রক্ত ঝরেছে, সে জমিনে ইনসাফের বিজয় হবেই হবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদরাই তাঁদের কাছে প্রকৃত নায়ক। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই নতুন বাংলাদেশ পাওয়া গেছে। শহীদদের স্মৃতি ও বার্তা ক্যাম্পাসের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভে এসে শিক্ষার্থীরা সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের প্রেরণা লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন শহীদ জোনায়েদের বাবা। এতে দেশ, জাতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিমউদ্দিন খান (খান জসিম), সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সম্পাদক আনাস ইবনে মুনির, রাইসুল ইসলামসহ ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।