স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বনদক্ষিণ বাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘কালীগঙ্গা’ বাসে হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও চালকসহ অন্তত প্রায় ১১ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জগামী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালীগঙ্গা’ বাসটি সিংগাইরের বনদক্ষিণ বাজার এলাকায় গেলে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, হামলায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ সেশনের জাকিয়া তানজুম রিনভি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের মুন আক্তার, রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আখি আক্তার, ইতিহাস বিভাগের আরিশা রহমান পুর্নিমাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়াও বাসচালক সাজ্জাদ হোসেনকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।

জবির পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, "বনদক্ষিণ বাজারে আমাদের একটি গাড়ির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, গাড়িটা ঐ এলাকার একটা অটোওয়ালার সাথে তর্কে-বিতর্কে জড়িয়েছিল। আমাদের স্টুডেন্টরা নেমে সম্ভবত অটোওয়ালাকে ধাক্কা মারছে। এরপর আর কী হয়েছে বিস্তারিত এখনও জানি না। তবে পরে গাড়িতে ওরা স্থানীয় লোকজনসহ হামলা চালিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের যে গাড়িটায় হামলা হয়েছে সেটার নাম হচ্ছে কালীগঙ্গা, যেটি মানিকগঞ্জে যায়। আর ওখানে প্রায় ১০ জনের মতো আহত হয়েছে। যার মধ্যে দুজনের খুবই মারাত্মক ইনজুরি হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি। আমি দেখতে যাচ্ছি অলরেডি, পথে আছি।"

জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কালীগঙ্গা বাসের ড্রাইভার মামার সাথে কথা হলো, দুজন নারী শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা থানায় অবস্থান করছেন বর্তমানে, মামলার প্রস্তুতি চলছে। জকসুর ভিপি উপাচার্য স্যারের সাথে কথা বলে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে বলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই পরিবহন প্রশাসক থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, "সিংগাইর সড়কে একটি দুর্ঘটনা ঘটে, তবে জবির বাসটি এর সঙ্গে জড়িত নয় বলে নিশ্চিত হয়েছি। স্থানীয় এ ঘটনায় বাসটিকে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। তারা হয়তো মনে করেছে এ ঘটনায় বাসটি জড়িত।"

তিনি আরও বলেন, "আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ওনারা মামলা করলে তা নেওয়া হবে।"