গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের এবং হাম সন্দেহে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৭০ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৭৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৭৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৬১৭ জন।

১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ হাজার ১৭২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ হাজার ২৫৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৮৩ জনের।

এদিকে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গতকাল সোমবার দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কের ‘লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে’ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোয় সকাল আটটা থেকে দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ জানান, দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলা ও চারটি সিটি করপোরেশনসহ সব এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এ কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে শুরু হওয়া টিকা কর্মসূচি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। আর ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া কর্মসূচি চলবে আগামী ১২ মে পর্যন্ত। শুরু হওয়া দেশব্যাপী হাম–রুবেলার এ জরুরি টিকাদান কর্মসূচি সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী ২০ মে পর্যন্ত এবং অন্যান্য জায়গায় আগামী ১২ মে পর্যন্ত চলবে।

এর আগে ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ) একযোগে এ কার্যক্রম শুরু করে সরকার। যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এ সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া প্রথম ডোজ নেওয়ার পর চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে হামের টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর : গাজীপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধনের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যাপক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নগরীর জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সচিব মুহাম্মদ সানিউল কাদের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমানসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

এদিকে একই দিনে মহানগরের দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আরেকটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি। সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া, পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন, বিএনপি নেতা মীর হালিমুজ্জামান ননী,এডভোকেট মেহেদী হাসান এলিছ, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ রাজনৈতিক ও প্রশাসনের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

খুলনা ব্যুরো জানায়, বিভাগীয় পর্যায়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান সোমবার ফুলবাড়ি গেটস্থ বক্ষব্যাধি হাসপাতাল চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হক সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মো. আকিব উদ্দিন, খুলনা ইউনিসেফ এর চীফ মো. কাওসার হোসেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মো. আরিফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮২১ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভাগে ১৪ হাজার ৯৩৬টি টিকা কেন্দ্রে দুই হাজার ২৯৮৯ জন টিকাদানকারী এবং সাত হাজার ৭৫৪ জন ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালন করবে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে।

২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যাদের ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের শিশু রয়েছে তারা াধীবঢ়র.মড়া.নফ এই ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন জন্মনিবন্ধন দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। তবে যাদের জন্মনিবন্ধন নেই তারাও রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই টিকা নিতে পারবে।

এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে ২২নং ওয়ার্ডে কাস্টমঘাট আমিরাবানু বেগম নগর মাতৃসদন এ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যে অনেক শিশু ঝরে পড়েছে। সরকার যথাযথ গুরুত্বের সাথে শিশুদের টিকার আওতায় আনার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আজ প্রথম দিন। তিনি বলেন, কোভিডের মতো হাম ভাইরাসজনিত রোগ তাই করোনার মতো হামের টিকার বিষয়ে সকলকে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যাম্পেইনে যেন কোন শিশুবাদ না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে মায়েদের অধিক যতœবান হতে হবে এবং তাদের শিশুদেরকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। সরকারের এই টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে আমাদেরকে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই জাতিকে জাতীয় দুর্যোগ থেকে রক্ষা করা যাবে। শেষে তিনি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের ঘোষণা উদ্বোধন করেন।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুলনা উপপুলিশ কমিশনার (অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, খুলনা স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খানম, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তাত্ত্ববধায়ক ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম, থানা শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহজাহানসহ ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইপিআই স্পেশালিষ্টের প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন কেসিসি’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।