কান মানুষের শরীরের শুধু শব্দ শোনার অঙ্গ নয়, এটি শরীরের ভারসাম্য (Balance) রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কানের কাজকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. শ্রবণ বা শব্দ শোনা (Hearing):
কানের বাইরের অংশ (পিনা) শব্দ তরঙ্গ সংগ্রহ করে।
মধ্যকর্ণের তিনটি হাড় (মেলিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস) শব্দকে বর্ধিত করে অন্তঃকর্ণে পাঠায়।
অন্তঃকর্ণের ককলিয়া (Cochlea) শব্দ তরঙ্গকে স্নায়বিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়, ফলে আমরা শুনতে পাই।
২. শরীরের ভারসাম্য রক্ষা (Balance/Equilibrium):
অন্তঃকর্ণে অর্ধবৃত্তাকার নালী (Semicircular canals) ও ভেস্টিবুলার সিস্টেম নামক বিশেষ অংশ থাকে।
এই নালীগুলো তরল পদার্থে পূর্ণ এবং তাতে সংবেদী রোম থাকে।
আমরা যখন হাঁটি বা মাথা নাড়াই, তখন এই তরল ও রোমগুলো মস্তিষ্কে আমাদের শরীরের অবস্থানের তথ্য পাঠায়।
যদি কানের এই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে মানুষ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, মাথা ঘোরে বা বমি ভাব হয়।
বিশেষ তথ্য: ডান কান সাধারণত ভাষা ও তথ্য বিশ্লেষণে বেশি সক্রিয় এবং বাঁ কান সুর, সংগীত ও আবেগ বুঝতে বেশি দক্ষ।
কানের যত
কানের সঠিক যত্ন নিতে নিয়মিত কান শুকনো রাখা, সরু কাঠি বা বাডস ব্যবহার না করা এবং উচ্চ শব্দ পরিহার করা জরুরি। কান পরিষ্কার করতে জোর করবেন না, কারণ খৈল বা ওয়াক্স নিজে থেকেই বেরিয়ে আসে। কানে ব্যথা, চুলকানি, পানি পড়া বা কম শুনলে দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কানের যত্নে করণীয় ও টিপস:
কান শুকনো রাখুন: গোসল বা সাঁতার কাটার সময় কানে পানি ঢুকলে তা তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে ফেলুন।
বাডস ব্যবহার বর্জন: কানের ভেতরে বাডস, দিয়াশলাইয়ের কাঠি বা চুলের কাঁটা দেবেন না, এতে পর্দা ফাটার ঝুঁকি থাকে।
উচ্চ শব্দ পরিহার: দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহার বা উচ্চ আওয়াজে গান শোনা থেকে বিরত থাকুন ।
খৈল পরিষ্কার: কানের ওয়াক্স বা খৈল নিজে থেকে পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই, এটি কানকে ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে।
সংক্রমণ প্রতিরোধ: কানে পানি জমলে বা ঠান্ডা লাগলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, যা কান পাকা বা ইনফেকশন রোধ করে।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন:
কানে অস্বাভাবিক ব্যথা, চুলকানি, পুঁজ বা পানি পড়া, অথবা হঠাৎ কম শুনতে পেলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।