গণমাধ্যম কমিশন গঠনে শিগগিরই একটি পরামর্শক কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একইসঙ্গে সাংবাদিকতায় বিভিন্ন ধরনের অব্যবস্থাপনা নিরসনে সমস্ত আশঙ্কা দূর করতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান । বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার রাশেদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ডিরেক্টর অব প্রোগ্রাম রিচার্ড লেইস এবং কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়েই গণমাধ্যম সংস্কারে কাজ করতে চায় সরকার। এই লক্ষ্যে এ পর্যন্ত গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে যেসব আলোচনা, সুপারিশ ও নীতিগত প্রস্তাব এসেছে, সেগুলোই ভবিষ্যৎ কাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে। উন্নয়ন সহযোগী, সাংবাদিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে।’
গণমাধ্যম সংস্কার শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি (গণমাধ্যম সংস্কার) সরকার, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজ-সব পক্ষের যৌথ দায়িত্ব। সরকার একদিকে যেমন এ খাতের অংশীদার হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সমন্বয়কারীর ভূমিকাও পালন করবে।’
তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন , জনগণের মত প্রকাশে বাঁধা সৃষ্টি করার মতো ঘটনা নিরসনে সরকার কাজ করছে। আগামী জুন-জুলাই নাগাদ এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে। সরকার গণমাধ্যম কমিশন তৈরিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাজ্যকে পাশে পাবার আশ্বাস দিয়ে ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক।
তিনি বলেন,গণমাধ্যম নিজেদের প্রতি দায়িত্বশীল হলে, এবং সরকার তার পলিসির ব্যাপারে সচেতন হলে, তা গণমাধ্যমের জন্য ভালো প্রমাণিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম নিজেদের প্রতি দায়িত্বশীল হলে এবং সরকার তার পলিসির ব্যাপারে সচেতন হলে, তা গণমাধ্যমের জন্য ভালো প্রমাণিত হয়।’
বিজেসির চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের একটি বেতন স্কেল থাকা দরকার। সরকার যদি এ বিষয়ে নজর দেয় তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান হবে
ফাহিম আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অর্থনৈতিক সমস্যা। আমাদের সাংবাদিকেরা বেতন কম পায়, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই নেই। অল্প দু-একটি প্রতিষ্ঠানে আছে। টেলিভিশনে আরও খারাপ অবস্থা। আমরা বাইরে থেকে সাংবাদিকদের যতটা লাক্সারি মনে করি সাংবাদিকরা এত লাক্সারি না। সাংবাদিকরা ন্যূনতম বেতন পায় কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে সে বেতনও দিতে চায় না।