তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আধুনিক গণমাধ্যম এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সমন্বিত এক জগতে পরিণত হয়েছে, যেখানে তথ্য ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্যক্তিমালিকানাধীন গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা যায়।
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) মৃত দুই সদস্য নিখিল মানখিন ও শ্যামল কান্তি নাগের পরিবারের হাতে গ্রুপ বিমার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম খাতে বিদ্যমান অনিয়ম দূর করতে সরকার একটি আধুনিক গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই কমিশন এমন নীতিমালা তৈরি করবে, যেখানে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবে না, মালিকপক্ষ সাংবাদিকদের অপব্যবহার করতে পারবে না এবং সাংবাদিকরাও তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না।
তিনি প্রকৃত সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিমা সুবিধা গ্রহণের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি টেলিভিশন মালিকদের একটি সংগঠন সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘এনওসি’ বাধ্যতামূলক করার যে নোটিশ দিয়েছিল, তা সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং তাদের ‘শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার’ অপচেষ্টা। সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ও প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড সিইও মো. কাজিম উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল প্রমুখ।
ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী ইতালির রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে ইতালিতে অভিবাসন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সাক্ষাৎ করেন তারা।
ইতালির রাষ্ট্রদূত তথ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইতালিতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী অভিবাসী অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তারা বাংলাদেশ ও ইতালি উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইতালিতে সমুদ্র পথে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তথ্যমন্ত্রী সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ইতালি বাংলাদেশী অভিবাসীদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
তথ্যমন্ত্রী গণযোগাযোগ, ডিজিটাল প্লাটফর্ম ও সম্প্রচার বিষয়ে ইতালির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রস্তাব দেন। তিনি ইতালির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে, এক্ষেত্রে ‘নলেজ শেয়ারিং’-এর বিষয়ে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইতালির রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে অভিবাসন চলমান আছে এবং বিগত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজার মানুষ ইতালিতে অভিবাসী হয়েছেন।