বৈষম্য দূর করে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই দেশ স্বাধীন হয়েছে; অথচ ৫৫ বছর পরও সেই একই বৈষম্যের কারণে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে হোটেল ও হাসপাতাল সেক্টরের শ্রমিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

হোটেল ও হাসপাতাল সেক্টরের সভাপতি, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু এবং প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দেশের শ্রমিক অঙ্গনের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন। কিন্তু দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী শাসন ও সরকারের নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এটি তৃণমূল পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়নি। এখন সময় এসেছে সংগঠনের আদর্শ, নীতি-নৈতিকতা এবং শ্রমিকদের কল্যাণে পরিচালিত নিঃস্বার্থ কর্মকাণ্ড দেশের প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার।

তিনি আরও বলেন, দেশের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে মূলত কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত শ্রমিক সংগঠনকেই চিনে এসেছে। কিন্তু শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সবসময় শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশের সংকটময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছে। কেবল আদর্শগত অবস্থানের কারণে সংগঠনটি কখনোই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি, বরং বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে বাধা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ফলে শ্রমিক অঙ্গনে ইসলামপন্থী আদর্শের সংগঠনগুলো তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তারের পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সামনে ব্যাপকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সুযোগকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে শ্রমিকদের মাঝে সংগঠনের আদর্শ ও সেবামূলক কার্যক্রম পৌঁছে দিতে হবে।

কাজের মূল্যায়নের চেয়ে নিষ্ঠাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি ফুলের বাগানের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, একজন মালি যেমন পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানকে ফুলে-ফলে সমৃদ্ধ করেন, তেমনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনও শ্রমিকদের কল্যাণে নিবেদিত থেকে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চায়। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের প্রতিটি হোটেল ও হাসপাতালে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্টরভিত্তিক কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারলে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।