বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এইচআরডব্লিউর কোনো প্রতিনিধি আমাদের কাছে আসেননি, আমাদের সঠিকভাবে জিজ্ঞাসা না করে, তদন্ত সংস্থায় প্রয়োজনীয় খোঁজখবর না নিয়ে তারা যে রিপোর্টটি দিয়েছে—তা পক্ষপাতদুষ্ট। কোনো আসামির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই রিপোর্ট দিয়েছে বলে মনে হয়েছে।

এর আগে আইসিটির বিচার-প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।

প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে বারবার প্রায় একই ধরনের অভিযোগ এনেছে বলে তারা অভিযোগ করছে—এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সারা দেশে একই ধরনের অপরাধ এবং একই রকম মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাই বাস্তব ঘটনার প্রেক্ষিতে সাক্ষীদের বক্তব্যে সামঞ্জস্য থাকাটাই স্বাভাবিক এবং বাঞ্ছনীয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অতিরিক্ত আইজিপি, এসপিসহ ২৩ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রসিকিউশন টিমে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবীরা দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাদের দক্ষতা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ একটি দেশীয় আইন। তাই দেশের আইনজীবী ও বিচারকদের মাধ্যমেই এ বিচার পরিচালিত হবে। বিদেশি বিচারক বা আইনজীবী এনে বিচার পরিচালনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বরং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টিসহ যেসব সংস্থা বারবার এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই না করে এবং আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তারা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।