আপিল বিভাগে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম বিলুপ্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২০ মে) সকালে বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন উপস্থাপন করা হলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের কাছে জানতে চান, ‘এটি কীভাবে সম্ভব?’

পরে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই কার্যক্রম বিলুপ্ত করায় সরকার আদালত অবমাননা করেছে।

আগামীকাল সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করবেন শিশির মনির।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় বিদেশিদের কাছেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে সেখানে কর্মরত ১৫ জন বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরও আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পরে অধ্যাদেশটি বাতিল করে বিএনপি সরকার।

তবে বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত রায়ে হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। যদিও এখনো আপিল করা হয়নি। একই সঙ্গে হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের কাছে আশা প্রকাশ করেন, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে যেন সচিবালয়ের কার্যক্রম বন্ধ না করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বিচারকদের বদলি, প্রশাসনিক তদারকি ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।