জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা না হলে দেশে আবারও নতুন গণআন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনে গণহত্যাকারী ও খুনিদের বিচার এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রিকশা-ভ্যান শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মহিবুল্লাহর সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম এবং কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, “আল্লাহর প্রতি ঈমান ও বিশুদ্ধ আকিদার ভিত্তিতে ব্যক্তি ও সমাজ কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ক্ষমাশীলতা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী মূল্যবোধ চর্চার কোনো বিকল্প নেই।”
শ্রমিকদের অধিকার ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়নি। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না করে হঠাৎ শ্রমিকদের উপার্জনের পথ বন্ধ করা মোটেও উচিত নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী গণমানুষের অভূতপূর্ব ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচারের পতন সম্ভব হয়েছে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে কখনও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।”
জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অবহেলা করা হলে ক্ষুব্ধ জনতা আবারও রাজপথে নেমে নতুন গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
সমাবেশের অন্যান্য বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে অবিলম্বে নিহতদের বিচার কার্যকর করা, শ্রমজীবী মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।