অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঈমানি শক্তি, দৃঢ় মনোবল ও সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার স্থানীয় মম ইন কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘রুকন সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে বগুড়া মহানগর ও জেলা জামায়াতের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পুরুষ ও মহিলা রুকন অংশ নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ তাদেরকে বিরোধী দলে বসিয়েছে দেশের মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার দায়িত্ব পালনের জন্য। এই দায়িত্বকে আমানত হিসেবে নিয়ে যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঈমানি শক্তি, সাহস ও মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

বগুড়াকে ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, শহীদ আবদুল মালেক, ফকির আবদুর রহমান ও অধ্যক্ষ মাওলানা তাইয়েব আলীর মতো ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বগুড়ার ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। উত্তরবঙ্গের ‘রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত বগুড়ার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানে এ অঞ্চলকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী দিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বগুড়া নেতৃত্ব দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হক সরকার, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য সৈয়দ আবদুল আজিজ।

সম্মেলনটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বগুড়া মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এএসএম মালেক ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান।

সম্মেলনে সাংগঠনিক কার্যক্রম, দায়িত্ব-কর্তব্য এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে রুকনদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমান বগুড়ার ধুনটে শহীদ আবদুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি শহীদ আবদুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন এবং ‘শহীদ আবদুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।