সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা যখন তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলি সরকার তখন স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি দেয়। অথচ দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটা টীম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার বলেও কিছু করতে না পেরে আমরা রাজপথে নেমেছি। তিনি বলেন, চব্বিশের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংষ্কার চেয়েছিলেন। সেই সংস্কারের লক্ষ্যে তারা গণভোটের হ্যাঁর পক্ষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছিলেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সাথে সাথে সেই ওয়াদার বরখেলাপ করেছে। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলোনা। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যেখানেই অঙ্গতি দেখবো সেখানেই কথা বলবো। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে এটা ভাবি নি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক এটা আমি চাই।

তিনি গতকাল শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আমরা ৫৫ বছর অতিক্রম করে এসেছি। একটা জাতির জন্য এই সময় নেহায়েত ছোট নয়। আমরা যদি মালয়েশিয়ার দিকে তাকাই তাদের স্বাধীনতার বয়স আমাদের থেকে খুব বড় নয়। কিন্তু মালয়েশিয়া বিশ্বে তার একটি জায়গা দখল করে নিয়েছে। আমরা যদি জাপানের দিকে তাকাই, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইলেক্ট্রনিক্স ম্যাকানিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি সুইচওভার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কোথায়? তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানীরা শোষণ করেছে, ব্যবসা করেছে। স্বাধীনতার পর এই সমস্ত সম্পত্তি বাংলাদেশে নামক রাস্ট্রের মালিকানায় চলে এসেছে। আদমজী জুট মিলকে বলা হতো- বিশ্বের বৃহত্তম জুট ইন্ডাস্ট্রি, আজকে আদমজীর নাম নিশানা মুছে গেছে। স্বাধীনতার পরে সবকিছু হরিলুট হয়েছে। এখন একটা শিল্পপার্ক করা হয়েছে কিন্তু সেই আদমজীর গৌরব আর নেই। আমি এজন্য পাকিস্তানী বেনিয়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিচ্ছি না। আমি আমাদের মানসিকতা এবং বাস্তবতার উদাহরণ দিচ্ছি। তিনি বলেন, দেশে কিছু শিল্প স্থাপনা গড়ে উঠলেও তা যথেষ্ট নয়। শিল্পের মূল শক্তি হচ্ছে বিদ্যুৎ। ৩টি উৎস থেকে এই বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তেল, গ্যাস এবং সোলার। বর্তমানে বিদ্যুৎ, গ্যাসের কারণে দেশ মারাত্মক সংকটে পড়েছে। শিল্পে মারাত্মক আঘাত এসেছে। সম্প্রতি তৈরি পোাশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠনে বিজেএমইএ’র নেতৃবৃন্দ প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করে বলেছেন, চাহিদা মত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে তারা ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করতে পারবেন না। ঋণ খেলাপী হবেন। শ্রমিকদের ছাঁটাই করবেন। বায়ারদের সময়মত অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বায়াররা অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। আমাদের বৃহত্তম রপ্তানী খাতের এই অবস্তা হলে বাঁকিগুলো এখান থেকেই বুঝা যায়। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটা টীম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। তারা সরকারের এই বিষয়ে এক্সপার্টদের সাথে মিলে সংকট সমাধানের পথ তৈরি করবেন। আমরা দেশকে ভালোবাসি এজন্য এই অফার দিয়েছি। বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে বিরোধী দল কখনো সরকারি দলকে এরকম অফার দেয় নি। এর আগে তেলের সংকট দেখা দিলে পাম্পে পাম্পে ঘুরেছি, মানুষের সাথে কথা বলেছি, সংসদে কথা বলেছি সরকার সংকট অস্বীকার করেছে। বিদ্যুতের সংকটও তারা অস্বীকার করেছে। আজগুবি কথা বলেছে। দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথা বলেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সংসদে বিবৃতিতে বলেছেন, তার লম্বা হওয়ার কারণে কারেন্টের সাপ্লাই ঠিকমত দেওয়া যায়নি। সংসদের ভিতরে যখন আমরা দেখলাম কিছু করতে পারছিনা তখন এই দাবির সাথে আরও ৫টি দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছি। আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে এখন লং মার্চ করছি।

তিনি বলেন, লংমার্চ নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে। বলা হয় তেল সংকটের মধ্যে আমরা এতো গাড়ী নিয়ে কেন লংমার্চ করছি? আমরা লং মার্চ না করলেও এসব গাড়ী বসে থাকতোনা। তারা চলাচল করতো। বরং আমরা লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন করছি। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা জনগণকে অধিকার সচেতন করতে চাই। এভাবেই একদিন জনগণের দাবি পূরণ হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ হলো জনগণের অধিকারের পাহারাদারি, চৌকিদারি করা। ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করা। বিরোধী দলের হাতে কখনো স্বৈরশাসন কায়েম হয় না। শাসক সুশাসক হতে পারে, স্বৈরশাসক হতে পারে। আমরা স্বৈরশাসকের কবলে সাড়ে ১৫ বছর ছিলাম। আমাদের অনেক নেতাকে হারিয়েছি। অনেকে গুম হয়ে এখনো ফিরে আসেনি। সস্বজনরা জানেন না তাদের প্রিয়জনরা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে। আমীরে জামায়াত বলেন, চব্বিশের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংষ্কার চেয়েছিলেন। আমরা সংস্কারের পক্ষে ছিলাম। দেশবাসীকে হ্যাঁর পক্ষে ভোট দিতে বলেছিলাম। জনগণ আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। প্রদত্ত ভোটের ৬৮ দশমিক ২ পারসেন্ট মানুষ হ্যাঁর পক্ষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সাথে সাথে তাদের দেওয়া ওয়াদার বরখেলাপ করলেন। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন না।

তিনি ইতিহাস স্বরণ করে বলেন, ৭০ সালে ভোটের রায় অমান্য করার কারনেই যুদ্ধ হয়েছিল। শেখ মুজিব দফায় দফায় ইয়াহিয়া খানের সাথে বৈঠক করেছেন শান্তিপূর্ন ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য। রায় মেনে নিয়ে সংসদ সদস্যদের শপথের ব্যবস্থা করা এবং সংসদ অধিবেশন ডাকার জন্য বলেছেন। সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার রাজি হয়নি বলেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছি। কাজেই জনগণের ভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার শক্তি আমাদের কারোর নাই। জনগণ চায় তাদের রায়ের বাস্তবায়ন, আমরা সেই দাবিগুলো নিয়েই আন্দোলন করছি।

সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ; দিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সবসময় আপনাদের থেকে সহযোগিতা পাই। কিন্তু মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা দু’একজন করেন। আমাদের বক্তব্য কাঁটছাট করে প্রচার করা হয়। তারপরেও আমরা মিডিয়ার ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল। কখনো মিডিয়াকে আঘাত করে কথা বলিনা। কারন এটা হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে পাওয়ারফুল পিলার। এটা সততার উপরে থাকলে রাস্ট্রের অবশিষ্ট তিনটি স্তম্ভ সোজা পথে চলতে বাধ্য। তিনি একটি সুন্দর দেশ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা করেন। বগুড়ার উন্নয়নের বিষয়ে আমিরে জামায়াত বলেন, যেখানেই অসংগতি দেখবো সেখানেই কথা বলবো। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে এটা ভাবিনি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক এটা আমি চাই। মতবিনিময়কালে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিঢিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় শেষে আমিরে জামায়াত হোটেল মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগদান করেন।

শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করে। তিনি গতকাল শনিবার সকালে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। এসময় তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ করেন এবং শহীদ আব্দুল মালেকের শাহাদত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। এরপর ডা: শফিকুর রহমান স্থানীয় মাদরাসায় শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন। আমীরে জায়ামাতের আগমন উপলক্ষে স্থানীয় মাদরাসা মাঠে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত হন। ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য বলেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশ ভালো নেই। বিদ্যুৎ এবং সার সংকট চরমে। দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি সরকার আমাদেরকে কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি। এ সময় জামাাতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সার্কিট হাউজে রাত্রী যাপন করেন ডা: শফিকুর রহমান।

বগুড়ায় শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারতে ডা. শফিকুর রহমান

শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বগুড়ায় শহীদ আব্দুল মালেক এর কবর জিয়ারত করেছেন। এ সময় তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন এবং ‘শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্স’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

গতকাল শনিবার সকালে সফরের শুরুতে তিনি শহীদ আব্দুল মালেক (রাহি.)-এর কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। এর আগে দিনব্যাপী সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাত ১০টায় ঢাকা থেকে বগুড়ায় পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান।

পরে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডা. শফিকুর রহমান তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে শহীদ পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আমরা জনগণের দাবি আদায় করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা : গতকাল শনিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বশীলদের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই’—এমন মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই অসঙ্গতি দেখা যাবে, সেখানেই তারা কথা বলবেন।

জামায়াতের আমীর বলেন, বর্তমান সরকার কুরআনের আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে আইন পাশ করেছে যা সুস্পষ্ট কুরআন বিরোধী।

এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল আমরা অনির্বাচিত কাউকে ক্ষমতায় বসাবো না। কিন্তু এখন তারা করছে উল্টাটা।

জামায়াত আমীর বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’—এমন কথা বলে আমাদেরকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

আমীরে জামায়াত বলেন, ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় অনেক লোক মারা গেছেন না খেয়ে। তখন লাশ রাস্তায় পড়ে থাকতো। সেই রকম একটা অবস্থা পড়ে করে এসেছে এই দেশ।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই সময়ের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমীর বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

প্রয়োজনে অন্যখাত থেকে কাটছাঁট করে শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ।’ চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিতে লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।’

জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর আধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, ইফসুর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির , অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম , এনসিপির জেলা সভাপতি এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, বায়তুল মাল সেক্রেটারি আহসান হাবিবুল্লাহ দেলোয়ার, জেলার কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালুকদার, ড. আতাউর রহমান, ওবায়দুর রহমান কোরাইশী, শহর আমীর মিজানুর রহমান চৌধুরী, সদর আমীর ইকবাল হোসাইন বাদল, জেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম খান প্রমুখ।