ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে শাপলা চত্বর অভিমুখে শনিবার সকাল ৭টায় বিশাল মিছিল বের হয়। উক্ত মিছিলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

মিছিল শুরুর আগে পল্টন মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সাতসকালে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেভাবে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনের বাংলাদেশ জনগণের হাতেই থাকবে।

তিনি বলেন, “আজকের এই লংমার্চ কোনো সরকার পতনের লংমার্চ নয়। এই লংমার্চ আমাদের অধিকার আদায়ের লংমার্চ।” নিত্যপণ্যের মূল্য কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, গ্যাসের সমস্যা সমাধান ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবিতেই এই লংমার্চ। তবে সবচেয়ে বড় দাবি হচ্ছে—গণভোটের গণরায় অবশ্যই মানতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে নানা কৌশল ও সংবিধানের অপব্যবহার করে কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারেনি। আগামীতেও জনগণের অধিকারকে উপেক্ষা করে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এসব কথা বললে বিএনপির বন্ধুরা হয়তো মন খারাপ করবেন। তবে এটি কোনো তাৎক্ষণিক সরকার পতনের হুমকি নয়। আপনাদের কিছু করার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু জনগণের দুর্ভোগ যদি তাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং জনগণ যদি রাস্তায় নেমে আসে, তখন কেউ তাদের ঠেকাতে পারবে না।

তিনি বলেন, বিরোধী দল অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু জনগণ শুধু সরকারি দল ও বিরোধী দলের দিকে তাকিয়ে থাকবে—বিষয়টি এমন নয়। জনগণের দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যাবে, তখন তারা কারও দিকে তাকাবে না।

তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের অকল্যাণ চাই না; কিন্তু আমরা জনগণের কল্যাণ চাই।” জনগণের প্রতি ভালোবাসার কারণে জনগণের কল্যাণ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই সময় থাকতেই সরকারকে সজাগ হতে হবে।

সেলিম উদ্দিন বলেন, “আজকে বুঝতে হবে বাংলাদেশ কিন্তু আগের জায়গায় নেই।” এখন মন্ত্রীদেরও আইন মানতে হচ্ছে এবং পুলিশেরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস হয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, লংমার্চ একটি বড় আন্দোলন ও বড় কর্মসূচি। সাধারণভাবে কথা বলেও যখন সরকারের কানে জনগণের দাবি পৌঁছাচ্ছে না, তখন জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে বিরোধী দলকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। জনগণ যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে, সেই খবর সরকারকে বুঝতে হবে।

সরকার যদি এই বার্তাকে সঠিকভাবে গ্রহণ না করে, তাহলে এর পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

এ সময় ঢাকার বুকে জাতীয় সংসদের সামনে একজন নারীর প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন ঘটনার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এড়িয়ে যেতে পারেন না। অন্য কোনো দেশে বা পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্য শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে পল্টন মোড় থেকে শাপলা চত্বর অভিমুখে বিশাল মিছিল বের হয়। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে মিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। এ সময় তারা জনগণের অধিকার আদায়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।