বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মানবকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান বাবলু এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। এ ছাড়া দারসুল কোরআন পেশ করেন মুফতি আলী হাসান উসামা।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আইউবী, দৈনিক সংগ্রামের বার্তা সম্পাদক শামছুল আরেফীনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলরা। এতে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীলরা অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিক অঙ্গনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্ভীক সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের বিদায় হলেও ভিন্ন রূপে অনেকে রয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে সাংবাদিকরা সত্যনির্ভর সাংবাদিকতা করার সুযোগ পাবেন। অন্যায়ভাবে কোনো ধরনের হয়রানির ঝুঁকি কিংবা ক্ষতির মুখে পড়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে না।”

অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, “কায়েমি ও ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের ব্যাংকিং খাত ও মিডিয়াকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই কায়েমি শক্তি সর্বদা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে রেখেছে। সুযোগ বুঝে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এজন্য আমাদের সাবধানে পথ চলতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই কায়েমি শক্তি চব্বিশের ৫ আগস্টের পর অনেক মিডিয়ার দখল নিয়ে সরকারকে সাময়িক সুবিধা দিলেও তারা একসময় উল্টো ছোবল দেবে—তাতে কোনো সন্দেহ নেই।”

জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের যেকোনো ঘটনার তাৎক্ষণিক ও সঠিক তথ্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।