বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে দুর্নীতি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, উন্নয়ন নাম দিয়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে দেশকে ধ্বংস করেছে একইভাবে, “উন্নয়নের নামে হরিলুট আর চলবে না”।

শনিবার (১৬ মে) সকালে নিজ নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের বগা ইউনিয়নের রাজনগর এলাকায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পটুয়াখালীর বাউফলে ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাংসদ ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “ধান, নদী ও খাল—এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে বরিশাল অঞ্চল। একইভাবে বাউফলের জীবন-জীবিকাও খালের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। খাল বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষক বাঁচবে; কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”। কৃষি পণ্য উৎপাদনে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা গর্বিত যে আমাদের পূর্বপুরুষরা কৃষক ছিলেন। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে খাল পুনঃখননের বিকল্প নেই। নির্বাচনের আগে জনগণ আমাকে খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছিলেন। আজ আমরা সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছি।”

এসময় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “জিয়াউর রহমানও বাউফলে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাই এ প্রকল্পকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ এই খাল থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবেন।”

খাল পুনঃখনন কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এমপি বলেন, “যারা এই কাজে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা চাই না সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেউ প্রশ্নবিদ্ধ হোক।” তিনি আরও জানান, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম তদারকির জন্য ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানসহ চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউএনও এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত মনিটরিং করবেন।

খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু, বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম সহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।