কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুরে বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান পাকার মৌসুমে দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় পাকাধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। শ্রমিক সংকট এতই প্রকট যে ২ মন ধানে মিলছে একজন শ্রমিক। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবছর ১৩ হাজার ৩০৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড- ২৮১০ হেক্টর, উফশী- ১০৪৯৭ হেক্টর আবাদ হয়েছে। যা থেকে ৮৯ হাজার ৩৪৪ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জলাবদ্ধ ঘেরের পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হওয়ায় এবার ২৭ বিলের ১৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়নি। যা থেকে ১১ হাজার ৫০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বেশি মুজুরীর আশায় শ্রমিকরা ৮/১০ জনের দল তৈরি করে বেশি দাম হাকাচ্ছে। আগে যেখানে প্রতিবিঘা জমির ধান কাটতে ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হতো, বর্তমানে তা বেড়ে ৮-১০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া, প্রয়োজনের সময় শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক ক্ষেতেই ধান কাটতে দেরি হচ্ছে।কাস্তা গ্রামের কৃষক সাত্তার জানায় ধান অনেক আগেই পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। গত শনিবার ভোরে গিয়েছিলাম কেশবপুর একমাত্র শ্রমিক হাট মূলগ্রাম বটতলায়। সেখানে প্রতিটি শ্রমিক সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করার শর্তে দাম হাকাচ্ছেন ১৮০০ থেকে ২০০০টাকা। এভাবে থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ধান না কাটলে কারেন্ট পোকার আক্রমণ হতে পারে।

জানা গেছে, একই সময়ে উপজেলা ব্যাপী ধান পেকে যাওয়ায় তীব্র শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যপেশায় টাকা বেশি হওয়ায় শ্রমিকরা পেশা বদল করায় আগের তুলনায় শ্রমিক সংখ্যা কমে গেছে। এ অবস্থায় দ্রুত শ্রমিক সংকট সমাধান না হলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমান আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।