চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা ব্যুরো : চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। জ্বালানি ঘাটতি, একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা এবং অনেক কেন্দ্রের আংশিক উৎপাদনের কারণে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) বিভাগের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নগরীতে লোডশেডিং ৪৫০ মেগাওয়াটের বেশি ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল সকাল ১১টায় চট্টগ্রামে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১,৩৮০ দশমিক ৫৩ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১,৮৮৫ দশমিক ৫০ মেগাওয়াটে। অন্যদিকে, একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১,২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট এবং ১,৪২৮ দশমিক ২০ মেগাওয়াট।
তবে এই উৎপাদন সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। গ্রিড ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ঘাটতি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং কেন্দ্রভিত্তিক উৎপাদন অস্থিতিশীলতার কারণে প্রকৃত প্রাপ্তি কমে যাচ্ছে। ফলে সকাল ১১টায় লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ৪৫৭ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট-যা চাহিদার বড় একটি অংশ।১৫ এপ্রিলের তুলনায় ১৭ এপ্রিল পরিস্থিতি অনেক বেশি অবনতির দিকে গেছে।
১৫ এপ্রিল সকাল ১১টায় উৎপাদন: ১,০৯৫.৯৬ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় উৎপাদন: ১,৪৭০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং: সকাল ১১টায় ১১১ মেগাওয়াট, সন্ধ্যায় ১৭০ মেগাওয়াটের বেশি।
অন্যদিকে ১৭ এপ্রিল লোডশেডিং এক লাফে ৪৫০ মেগাওয়াটের বেশি। এই তুলনা থেকে স্পষ্ট, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
১৭ এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ বা শূন্য উৎপাদনে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
আনলিমা ১১৬ মেগাওয়াট কেন্দ্র (পুরোপুরি বন্ধ) জুডিয়াক ৫৪ মেগাওয়াট কেন্দ্র। জুলধা-২ ও জুলধা-৩ কেন্দ্র। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট (১, ৩, ৪)। কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্ট (শূন্য উৎপাদন)। রাউজান-১ ও রাউজান-২ (২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুই কেন্দ্র)। এই কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় গ্রিডে বড় ধরনের উৎপাদন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক কেন্দ্র চালু থাকলেও তাদের উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এরমধ্যে আনোয়ারা ইউনাইটেড (৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা) - উৎপাদন মাত্র ১৬ মেগাওয়াট। এনার্জিপ্যাক (১০০ মেগাওয়াট) ১১-১২ মেগাওয়াট। হাটহাজারী (১০০ মেগাওয়াট) ৩৮-৪০ মেগাওয়াট। বারাকা গ্রুপের কেন্দ্রগুলোও পূর্ণ ক্ষমতায় নেই। এতে বোঝা যায়, শুধু কেন্দ্র চালু থাকলেই সংকট কাটছে না; জ্বালানি সরবরাহই এখানে প্রধান সীমাবদ্ধতা।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করছে কয়েকটি বড় কেন্দ্রের ওপর। এরমধ্যে আছে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র – ৪৭০-৫২০ মেগাওয়াট। এসএস পাওয়ার বাঁশখালী -৩৭০ থেকে ৬১২ মেগাওয়াট। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র - ২১৩-২১৪ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্রগুলো সচল থাকলেও এককভাবে পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকেও প্রত্যাশিত সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। যারমধ্যে কাপ্তাই সোলার -সর্বোচ্চ ২.৪৫ মেগাওয়াট। টেকনাফ সোলার - প্রায় ১৭ মেগাওয়াট। কেপিজেড সোলার - সীমিত উৎপাদন। কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্ট - অনেক সময় শূন্য। ফলে বিকল্প উৎস থেকেও সংকট কাটানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
এই তীব্র লোডশেডিং সরাসরি আঘাত হানছে নগরজীবনে। বাসাবাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘœ। রাতে ভোগান্তি কয়েকগুণ বৃদ্ধি। পানি সরবরাহেও সমস্যা।
বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া।জ্বালানি তেলের সংকট। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। ফলে উৎপাদন ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু না করলে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে লোডশেডিং এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে-যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জনজীবন ও অর্থনীতিতে।
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী অঞ্চলে চলছে বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং। এই লোডশেডিং-এর সময়কাল ৯ ঘন্টা থেকে ১৫ ঘন্টা পর্যন্ত দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে তীব্র গরমে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিং-এর কারণে হুমকিতে পড়েছে সেচ ব্যবস্থাও। এই লোডশেডিং শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি হচ্ছে বলেও জানা গেছে। শহরে এক থেকে দেড় ঘণ্টা হলেও গ্রামে ৯ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এ অবস্থায় প্রচ- গরমের মধ্যে বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে মানুষ। দুর্গাপুর উপজেলার একজন অটোরিকশাচালক জানান, “রাতে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঠিকমতো চার্জ দিতে পারি না। রাতে চার্জ দিলে দিনের বেলায় অটোরিকশা নিয়ে ভাড়া মারি। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো চার্জ হয় না। সংসারের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।” গোদাগাড়ী উপজেলার একজন বাসিন্দা জানান, “২৪ ঘন্টায় কতবার বিদ্যুৎ যায় তার হিসাব নেই। একবার বিদ্যুৎ গেলে এক থেকে দুই ঘণ্টা পরে আসে। গরমের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। এতে দিনের বেলায় ঠিকমতো কাজ করতে পারি না।” অন্যদিকে নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপের একজন মালিক জানান, “আমার গভীর নলকূপের আওতায় প্রায় ২৯০ বিঘা বোরো জমি রয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বেকায়দায় পড়েছি।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জে খবরে জানা গেছে, গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বেড়েছে লোডশেডিং। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কয়েকগুণ বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নাজেহাল হয়ে পড়েছে। নাচোল উপজেলার একজন কৃষক জানান, “এখন বোরো ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়। জমিতে নিয়মিত পানি না দিলে ফলন কমে যাবে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়, এভাবে চাষাবাদ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই স্থান ও সময় ভেদে লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সরবারহ করতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে নেসকোর একজন জানান, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ৩১ থেকে ৩২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ২৫ থেকে ২৬ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ঘাটতি রয়েছে ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এ কারণে এলাকাভেদে লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে।” চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্টরা জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই গরম বেড়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বোরো চাষের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই স্থান ও সময় ভেদে বিভিন্ন সময় লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে।” তারা জানান, বৃহস্পতিবার সারাদিনের চাহিদা ছিল ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু পাওয়া গেছে ৪৬০ মেগাওয়াটের মতো। এতে ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট।
এদিকে চলমান জ্বালানি সংকটও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে সবমিলিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের দৈনন্দিন জনজীবনে সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি কতদিন নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা কেউ বলতে পারছে না।
খুলনা ব্যুরো
খুলনার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে ১০ ঘণ্টার বেশি। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) দেয়া তথ্য মতে, ১৬ এপ্রিল দুপুর ১টায় পিক-আওয়ারে ২০২ মেগাওয়াটের লোডশেডিং ছিল। খুলনা শহরে লোডশেডিং ছিল ১১৫ মেগাওয়াট।
ওজোপাডিকোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য মতে, ১৬ এপ্রিল দুপুর ১টায় পিক-আওয়ারে ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭৬২ মেগাওয়াট। সরবরাহ রয়েছে ৫৬০ মেগাওয়াট। ২০২ মেগাওয়াটের লোডশেডিং রয়েছে। খুলনা সিটিতে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ মেগাওয়াট। সরবরাহ রয়েছে ১৩১ মেগাওয়াট। ২৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং রয়েছে। পাশাপাশি খুলনা জোনে পিক-আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৫৭৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৪৫৮ মেগাওয়াট। ১১৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং রয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল জোনে পিক-আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮৯ মেগাওয়াট। সরবরাহ রয়েছে ১০২ মেগাওয়াট। ৮৭ মেগাওয়াটের লোডশেডিং রয়েছে। তবে বাস্তবে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং থাকছে বেশিরভাগ এলাকায়।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ১৬ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ১২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এখানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময়েও উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে খুলনা নগরীর বাসিন্দারা বলছেন, এলাকা ভেদে ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। যা ৬০ মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত বহাল থাকে।
নগরীর গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ গেলে আর আসার নাম থাকে না। দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়। আবার বিদ্যুৎ আসলে ৩০ মিনিট পরই চলে যায়। হিসাবে দিনে ১০-১১ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে থাকতে হয়। এতে ভোগান্তি বেড়ে গেছে আমাদের।’
নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ১৬ এপ্রিল দুপুরে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। ভোরে স্বল্প সময়ের জন্য লোডশেডিং হয়েছিল। একই অবস্থা ছিল বিকেল এবং সন্ধ্যায়ও।