ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই নেপালের ত্রাশূলী ও এর আশপাশের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া হাজারো মানুষ নতুন এক মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। খাবার পানি ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগসহ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক প্রলয়ঙ্করী বন্যায় ঘরবাড়ি ও সর্বস্ব হারিয়ে ত্রাশূলী হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। এই শিবিরে থাকা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি এবং থাইরয়েডের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না। এমনকি স্থানীয় হাসপাতালগুলোর নিজেদের কাছেও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদ ফুরিয়ে এসেছে। বন্যায় ত্রাশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল খাল এবং তুপচে এলাকার পাইপলাইন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পানীয় জলের প্রধান উৎসগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে দুর্গতরা দূষিত ও অনিরাপদ পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, জনাকীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সুপেয় পানির তীব্র অভাব, দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং শৌচাগারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক মহামারী বা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। তাছাড়া, গর্ভবতী নারী ও প্রসূতিদের পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার মতো যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম অবনতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র কালোবাজারি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য সংকট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাহাড়ি ঢল ও নিম্নাঞ্চলের বন্যা কেবল জীবনহানিই ঘটায় না, বরং এর অব্যবহিত পরেই পানিবাহিত রোগ ও স্যানিটেশন সংকট জনজীবনকে পঙ্গু করে দেয়। বাংলাদেশর মতো বন্যপ্রবণ দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা ও চিকিৎসাসামগ্রী মজুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে আগাম সতর্কবার্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্ব অপরিসীম।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট