২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার ফলে খোদ মার্কিন নাগরিকদেরই আর্থিক নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় সাধারণ আমেরিকানদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর থেকেই মার্কিন শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগুলো একদিকে যেমন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের দামামা বাজারগুলোতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা পিছু হটছেন এবং সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয় নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন সাধারণ জনগণের আবাসন ঋণ (Mortgage) এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যদিও ট্রাম্পের সমর্থকরা এই নীতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করছেন, তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ আমেরিকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারে। সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) বিঘ্নিত হওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন