স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরে নতুন ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা এ নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগের দাবি জানান।

বুধবার (১৪ মে) রাত থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন শুক্রবার (১৫ মে) পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। শিক্ষার্থীরা ডুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা ডুয়েট সংলগ্ন ঢাকা-শিমুলতলী আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা 'দাবি মোদের একটাই, ডুয়েট থেকে ভিসি চাই', 'বহিরাগত ভিসি মানি না', 'ডুয়েটের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব চাই'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নবনিযুক্ত ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ব্যানারও টানিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণা কার্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা বেশি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

তারা আরও জানান, বহিরাগত কাউকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে আন্দোলনের প্রতি আংশিক সমর্থন জানিয়েছে ডুয়েট শিক্ষক সমিতি। এর আগে এক জরুরি সভায় শিক্ষক সমিতির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগের দাবি জানান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ভিসি নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। পরে তারা ক্যাম্পাসে ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে আসে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।