• ৩ মাসের জন্য ‘দুর্যোগকবলিত অঞ্চল’ ঘোষণা
  • নিখোঁজ পর্যটকদের ৪০০ জনই বিদেশী
  • হিমালয়ের ঢলের পানি কি পদ্মায় আসছে

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত এ সংখ্যা জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা।

বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে দেওয়া পুলিশের আপডেটে এ সংখ্যা ছিল ২৮৯ জন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তালিকায় আরও ৪৩ জন যুক্ত হয়েছে। বিবিসি কাঠমান্ডু পোস্ট সিসিটিভি কাঠমান্ডু পোস্ট, নেপাল নিউজ, রয়টার্স, আল জাজিরা।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। এখনো ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজে নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা।

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে বন্যার কারণ মনে করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, হিমবাহের বরফ, পাথর ও মাটির ধস থেকেই এই ভয়াবহ জলস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।

ভয়াবহ স্রোত দেশটির রাসুয়াসহ বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার পর ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী ব্যবস্থার দিকে নেমে যায়। এতে বহু বসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও যাদের সন্ধান পাওয়া যায় নি, তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, জীবন বাঁচাতে পালানোর চেষ্টাকালে ভেসে যাচ্ছে মানুষ, ভেঙে পড়ছে বাড়িঘর ও সেতু। গতকাল বৃহস্পতিবার নেপাল থেকে ড্রোন ফুটেজে উঠে এসেছে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলের খাড়া উপত্যকাগুলো অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ও যোগাযোগের মূল পথ হলেও দুর্যোগের মুখে এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রলয়ঙ্কারী স্রোত বয়ে যাওয়ার পর নুয়াকোটের একাধিক ভবনের দোতলা পর্যন্ত কাদার আস্তরণে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে।

ফের বড় প্লাবনের হুঁশিয়ারি চীনের : সীমান্তবর্তী দুর্যোগের চরম আবহের মধ্যে নেপালে একটি বিশাল ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা কৃত্রিম বাঁধ হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ইতোমধ্যেই উপচে পড়ছে এবং আগামী দিনগুলোতে এতে পানিপ্রবাহ আরও বাড়লে হ্রদটি ফেটে প্রবল বেগে পানি ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

চীন ক্যাবল টেলিভিশন (সিসিটিভি) ও গ্লোবাল টাইমসের বরাত দিয়ে চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই বাঁধ হ্রদে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে এতে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে, যা বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেছে।

নেপালের ছোছেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংগমস্থলের কাছে এই হ্রদটি গঠিত হয়েছে। তিব্বত থেকে উৎপত্তি হওয়া ছোছেন ও পুরেপু নদী একত্রিত হয়ে নেপালে প্রবেশ করেছে, যা সেখানে ভোটেকোশী নদী নামে পরিচিত। ভোটেকোশী মূলত ত্রিশূলী নদীর প্রধান উচ্চতর উপনদী। সম্ভাব্য বাঁধ ভাঙার পরিণতি মূল্যায়ন ও জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য চীনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কৃত্রিম বন্যার পূর্বাভাস পরিচালনা করছে।

বুধবার সকালে নেপালের রাসুওয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে হঠাৎ এক শক্তিশালী বন্যা আঘাত হানে। প্রবল এই জলস্রোত তিমুরে ও স্যাফ্রুবেসি এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে সড়ক, সেতু, ভবনসহ নানা অবকাঠামো ধ্বংস করে ত্রিশূলী নদীর দিকে ধাবিত হয়। নেপাল-চীন সীমান্তজুড়ে বয়ে যাওয়া এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, অবকাঠামো ধ্বংস হয় এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ হন।

বন্যার পর থেকে উদ্ধারকারী দলগুলো ভেসে যাওয়া মানুষদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে এবং ভাটির বিভিন্ন জেলা থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। নতুন করে প্লাবনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রধান মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

এই চরম জটিল উদ্ধার অভিযানের মুখে নতুন সৃষ্টি হওয়া বাঁধ হ্রদটি বিপদের আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ পানির প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা নদী অববাহিকার জনপদ ও অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য জরুরি উদ্ধার এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ অপারেশনের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি এই হ্রদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও হাইড্রোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে।

চীনের সীমান্তেও ভয়াবহ পরিস্থিতি : দুর্যোগের সূত্রপাত হয় বুধবার। নেপালের ভূখণ্ড থেকে নেমে আসা একটি বিশাল ভূমিধস ও বন্যার স্রোত দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং বন্দর এলাকায় আঘাত হানে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় বন্যা ও কাদাধসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ৫৫৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

৩ মাসের জন্য ‘দুর্যোগকবলিত অঞ্চল’ ঘোষণা : নেপালের ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় এলাকাগুলোকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগকবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

সরকারের এই ঘোষণার ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সরকারি কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের পথও এতে সহজ হবে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নেপালি গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বুধবার রাজধানী কাঠমান্ডুর সিংহ দরবারে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বন্যায় নিহতদের প্রতি শোক ও তাদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

নেপাল সরকারের মুখপাত্র এবং শিক্ষা ও ক্রীড়ামন্ত্রী সস্মিত পোখরেল জানান, আহতদের বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আহতদের ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে অবিলম্বে উদ্ধার করার এবং ঝুঁকিতে থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের জন্য মন্ত্রণালয়টিকে নেপালের সেনাবাহিনী, বেসরকারি হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সম্পদ কাজে লাগানোরও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় দুর্যোগ কমিটিগুলোকে বন্যাদুর্গতদের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশটির পূর্ত মন্ত্রণালয়কে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত ও দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যায় আপনজন হারানো পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। আর অর্থমন্ত্রীকে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি ও ভৌত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য আর্থিক বরাদ্দ সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নেপালে নিখোঁজ পর্যটকদের ৪০০ জনই বিদেশী : ‘হিমালয়কন্যা’ নেপালে গত বুধবার আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে চার শতাধিকই বিদেশী নাগরিক। দেশটির পর্যটন কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজ বিদেশী পর্যটকদের দেশের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজদের এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

ভারত: নেপালে এ দুর্যোগে ১৩০ থেকে ১৩৩ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

অস্ট্রেলিয়া: নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, তাদের খোঁজে নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ক্যানবেরা।

যুক্তরাষ্ট্র: নেপালের পর্যটন বোর্ডের এক মুখপাত্রের বরাতে মার্কিন বার্তা সং¯’া অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, দুর্যোগের পর থেকে অন্তত ৪৭ জন মার্কিনের কোনো খোঁজ পাওয়া যা”েছ না।

যুক্তরাজ্য: নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক। এপি নেপালের পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কানাডা: কানাডায় অবস্থিত নেপালি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ২৪ জন কানাডার নাগরিক।

মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় থাকা নিজেদের অন্তত ১১ জন নাগরিকের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বি”িছন্ন হয়ে গেছে নেপালে নিযুক্ত মালয়েশীয় দূতাবাসের।

দক্ষিণ কোরিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রাতে জানায়, দুর্গত এলাকার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত তাদের ৯ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া সেখানে আরও ১০ দক্ষিণ কোরীয় আটকা পড়েছেন।

জাপান: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ি তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, নেপালে নিযুক্ত জাপানি দূতাবাস তাদের পাঁচজন নাগরিকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না। নিখোঁজ জাপানিদের উদ্ধারে অনুসন্ধান চালানোর জন্য নেপাল সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জামায়াতের শোক : নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নেপালের এই বন্যা, প্রাণহানি ও ধ্বসংযজ্ঞের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ শোক জানান।

বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, নেপালের রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলাসহ পার্শ্ববর্তী তিব্বত সীমান্তে ভূমিকম্প পরবর্তীতে তুষারধস ও বন্যায় অন্তত ৩১ জনের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। শিশু, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বহু নেপালি ও বিদেশী পর্যটকসহ ৩৮৪ জন নিখোঁজ হওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত।

তিনি বলেন, নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারে এবং দুর্গত এলাকার অসহায় মানুষদের সহায়তায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আমরা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের যথাযথ মর্যাদা কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি, নিখোঁজ ব্যক্তিবর্গ যেন দ্রুত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার পান এবং আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন সেই দোয়া করছি।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, এ কঠিন মুহূর্তে নেপাল সরকার, সে দেশের জনগণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের সাথে আমরা গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।