ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের শিক্ষাশিবির

স্টাফ রিপোর্টার

জনগণের বিপুল সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও রাজপথে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক দল হিসেবে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পন্থায় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার রয়েছে। দেশ ও জাতির স্বার্থের পরিপন্থি কোনো কাজে জামায়াতে ইসলামী অতীতে আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।

বুধবার দিনব্যাপী রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি-সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জনগণের দাবি পূরণে সংসদে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবি আদায় করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। জামায়াতে ইসলামী ও জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে অতীতের মতো অনেকেই দলটির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। তবে কোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তই জামায়াতের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে ভিত্তি মজবুত করার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তৃণমূলকে শক্তিশালী করে তুলছে। তৃণমূল হচ্ছে একটি আদর্শ সংগঠনের ভিত্তি। যাদের জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাদের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারে না, পারবে না।

ওয়ার্ড সভাপতি ও সেক্রেটারিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ কর্মসূচি সফল করতে অতীতের মতো ভূমিকা রাখার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, অন্যদের মতো জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা অস্ত্রের লড়াই করে না, ভবিষ্যতেও করবে না। জামায়াতের নেতাকর্মীদের জ্ঞানের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, কিছু মানুষ কোনো কিছু না বুঝেই নেতার পেছনে দৌড়ায় এবং নেতার কথায় অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। তাদের জ্ঞানের পরিধি সীমিত। জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তৃণমূল থেকে নিজেদের নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে, যা জামায়াতে ইসলামী করে আসছে।

তরুণ ও যুবসমাজ প্রসঙ্গে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, নতুন প্রজন্ম যাতে ইসলামমুখী হতে না পারে, সে জন্য ইসলামবিদ্বেষীরা ষড়যন্ত্র করছে। তবে দেশের যুবসমাজ ইসলাম ও দেশপ্রেমে বিশ্বাসী। তাদের ইসলামী চেতনায় পরিপূর্ণভাবে উজ্জীবিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো একটি বক্তব্য বা ছবি ব্যাপক প্রচার পেলেই সেটিকে সার্বজনীন জনপ্রিয়তা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে কতজন তা দেখছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। যুবসমাজকে অন্যায় থেকে রক্ষা করতে হলে তাদের নৈতিক ও আদর্শিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষাশিবিরে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান এবং মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসানের পরিচালনায় শিক্ষাশিবিরের শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শেখ শরিফ উদ্দিন আহমদ, সৈয়দ সিরাজুল হক ও মো. শহিদুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মো. মুজিবুর রহমান প্রমুখ।