আল-জাজিরার : ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এক ঘণ্টায় যেসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, তা মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও একটি ‘সদিচ্ছার’ নিদর্শন হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা একে এক ধরণের সমঝোতার প্রস্তাব হিসেবে ধরে নিতে পারি, তবে পরিস্থিতির জটিল প্রকৃতির কথা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কাতার ভিত্তিক গণমাধ্য তেহরান-ভিত্তিক সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি এক নিবন্ধনে এ সব কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘ইরান শুরুতে তাদের ‘শত্রুপক্ষীয়’ নয় এমন কিছু জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তারা এখন নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন পদ্ধতি বা মেকানিজম নিয়েও কথা বলছে। সম্প্রতি আইআরজিসি কর্তৃক প্রকাশিত মানচিত্রে আমরা যেমনটি দেখেছি, ওমানের কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় একটি ‘বিপদজনক অঞ্চল’ এবং ইরানের উপকূলরেখার কাছাকাছি একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ বা চলাচলের পথ চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের উত্তরোত্তর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়েরই বহিঃপ্রকাশ। এটি এমন একটি তুরুপের তাস যা তারা সহজে হাতছাড়া করবে না।
শুল্ক (টোল) আরোপের পরিকল্পনাটিও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। সদিচ্ছার নিদর্শন থাকা সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কথা বলছে; আর সেই ক্ষতিপূরণ আদায়ের অন্যতম একটি পথ হতে পারে হরমুজ প্রণালী এবং সেখানে তারা যে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে সেটি। বৃহত্তর আলোচনার প্রেক্ষাপটে অনেকগুলো অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ফ্রিজ হয়ে থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়া, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে-পারমাণবিক নথিপত্র ও তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের বিষয়ে একটি সমাধান খুঁজছে।
তবে এই মুহূর্তে, ‘অনিশ্চয়তাই’ হলো আসল বাস্তবতা। বর্তমান ভঙ্গুর পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে সফল আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত কঠিন।’ উল্লেখ্য-ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।