সিএনএন , এএফপি
চীনের উত্তরাঞ্চলে একটি কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৯০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এটিকে দেড় দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছিল। সিসিটিভির খবরে বলা হয়, প্রায় ২০ ঘণ্টা আগে ওই বিস্ফোরণের সময় খনিতে প্রায় ২৫০ শ্রমিক কাজ করছিলেন।
শানসি প্রদেশের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিস্ফোরণের পর আজ সকাল পর্যন্ত অন্তত ২০১ জন হতাহতকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় যে ২৫০ শ্রমিক কাজ করছিলেন, তাঁদের সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না বা এখনো কোনো শ্রমিক নিখোঁজ আছেন কি না, স্পষ্ট নয়।
বিস্ফোরণের পর চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক অভিযান’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনাটির ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্ত’ ও দায় নির্ধারণের নির্দেশও দিয়েছেন। কী কারণে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণ ঘটেছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিনহুয়া। তবে তাদের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কিনইউয়ান কাউন্টির চাংশি শহরে লিউশেনইউ কয়লাখনির ভেতরে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শুক্রবারের এ বিস্ফোরণটি ২০০৯ সালের পর চীনে সবচেয়ে ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনা। ওই বছর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে বিস্ফোরণে ১০৮ জন নিহত হয়েছিলেন।
দুর্ঘটনার পর খনি থেকে বেঁচে ফেরা আহত শ্রমিক ওয়াং ইয়ং সিসিটিভিকে বলেন, তিনি একটি ধোঁয়ার কু-লী দেখেছিলেন ও সালফারের গন্ধ পেয়েছিলেন। নিজে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগে ধোঁয়ায় অনেককে শ্বাসরুদ্ধ হতে দেখেছেন তিনি। ওয়াং বলেন, ‘আমি ঘণ্টাখানেক সেখানে অচেতন অবস্থায় পড়েছিলাম, তারপর চেতনা ফিরে পাই। পাশে থাকা লোকজনকে ডেকে তুলি এবং আমরা একসঙ্গে খনি থেকে বেরিয়ে আসি।’