ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর এনটিভির।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম চন্দ্রনাথ রাথ। কলকাতার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রাম বিধানসভা এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব নামের আরেক ব্যক্তি আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যমগ্রাম আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রথীন ঘোষ ২ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এ আসনে বিজেপির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ড এমন একদিনে ঘটল, যেদিন বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপি সমর্থক সেজে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গত ৪ মে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মঙ্গলবার (৫ মে) রাত পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন চারজন রাজনৈতিক কর্মী। এদের মধ্যে দুজন বিজেপি কর্মী ও দুজন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। ইতোমধ্যেই এসব হত্যার ঘটনায় একাধিক সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে কয়েকজনকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন অভিযুক্তরা। এ ছাড়া সহিংসতা থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রাজ্য পুলিশের দুজন সদস্য ও তিনজন বিএসএফ জওয়ান।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় প্রথম হত্যার অভিযোগ ওঠে সোমবার, কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলা হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে। সেখানকার এক বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

বিজেপি সূত্রে জানানো হয়, নিহতের নাম যাদব বর। বয়স ৪৮ বছর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাকে তৃণমূলের সমর্থকরা আটক করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুন করে।

বাংলাদেশের লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গে টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে ধসিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৬টি আসন জিতে নিয়ে প্রথমবারের মত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে তারা। অন্যদিকে মাত্র ৮১টি আসনে জিতে ভরাডুবির মুখে পড়তে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে।