নতুনের উঁকি

সাজজাদ হোসাইন খান

প্রতিদিন আসে রোদ প্রতি রাতে তারা

চন্দ্রের তালু ফেটে জোসনার ধারা।

সাগরের বুকে থাকে ঝড়দের ফণা

গ্রীষ্মের দুপুরে যে মাঠ ঠনঠনা।

ফুল ফোটে ফুল মরে তুলতুলে চুলে

সময়ের ডালে বসে ডাকে বুলবুলে।

প্রজাপতি ওড়াউড়ি হাওয়া যায় দূরে

হিসাবের পাতা নাকি আসে ঘুরে ঘুরে।

পুরাতন ফুটো করে নতুনের উঁকি

অতীতের পিঠে তাই ঢাঁশা টুকটুকি॥

বাংলা নববর্ষ

শাকেরা বেগম শিমু

এসেছে নতুন দিন করো তাকে বরণ

পুরোনো পচা স্মৃতি নাই করো স্মরণ।

পিছনের যত ঘোর কালো আঁধার,

এগিয়ে চলো ভেঙে প্রাচীর বাঁধার।

রঙিন সূর্যটাকে দেখো চোখ ভরে,

থেকো না ঘরের ঐ চৌকাঠে পড়ে।

সামনে এগিয়ে চলো হে নব তরুণ,

কতো উজ্জ্বল নববর্ষের এ অরুণ।

রাতজাগা পাখি

আবুল হোসেন আজাদ

সারা রাত জুড়ে একা আনমনে

ডালে বসে যাস ডেকে,

নেই চোখে ঘুম বিরতি বিহীন

ডাকিসরে থেকে থেকে।

তোর সাথে সাথী ঝিঁ ঝিঁ পোকারাও

একটানা সুরে সুরে,

শিয়ালেরা সাথে হুক্কা-হুয়াতে

ডাকে বনপথ ঘুরে।

রাতজাগা পাখি ঘুমহারা চোখে

ডেকে যে ফিরিস কাকে,

আকাশের নীলে তারাদের ভিড়ে

ডাকিস কি তোর মাকে ?

রাতজাগা পাখি তোর সাথে জাগে

জোনাকিরা বাঁশঝাড়ে,

ফুলের সুবাসে ভোর হলে শুনি

তোর ডাক বারে বারে।

মায়ের স্বপ্ন

হাফিজ মুহাম্মদ

মায়ের কোলে ছোট্ট খোকন

মায়ের স্বপ্ন কী যে,

আদর সোহাগ আগলে রাখে

রিক্ত হলেও নিজে।

খোকন সোনা চাঁদের কণা

জগৎ জুড়ে নেই তুলনা

শুধায় মধুর বাণী,

স্নেহছায়া উছলে পড়ে

মায়ের ভুবনখানি।

দুখের পরশ খোকন পেলে

মায়ের দু’চোখ ঝরে,

হাসিখুশি থাকলে খোকন

মায়ের পরাণ ভরে।

বোশেখ মেলা

আব্দুস সালাম

আমার গাঁয়ের বটতলাতে বসে বোশেখ মেলা

মন ভরে যায় যখন দেখি কুস্তি, লাঠিখেলা

বেতের ডালা, কুলা খালুই, তালের পাখা, ঝুড়ি,

নানান রঙের বেলুন ওড়ে, ওড়ে আরও ঘুড়ি।

মাটির পুতুল, খেলনাপাতি, টিয়া, হাতি, ঘোড়া,

নজর কাড়ে নকশিকাঁথা বেতের তৈরি মোড়া।

পিঠাপুলি, মণ্ডামিঠাই, নানান স্বাদের মিষ্টি,

মুড়কি-মোয়া, গজা, পাঁপড়, কাড়ে সবার দৃষ্টি।

নারী-শিশু বৃদ্ধ-যুবক নাগরদোলায় দোলে

পুতুলনাচের নাচন দেখে ছোটন নাচে কোলে

যাত্রা-গানের আসর বসে বড় বৃক্ষের ছায়ে

বোশেখ মেলায় মন চলে যায় আমার সোনার গাঁয়ে।

আমরা জেলে

সোহানুজ্জামান মেহরান

আমরা জেলে গাঁয়ের ছেলে

নদীর পাড়ে ঘর,

নদীর সাথেই ওঠাবসা

বন্ধু পরস্পর।

আমরা জেলে খেপলা ফেলে

ধরি হরেক মাছ,

চিতল বোয়াল ওঠে যদি

মনটা করে নাচ।

আমরা জেলে নৌকা ঠেলে

জীবন করি পার,

নদীর কূলেই নাওয়া-খাওয়া

নদীতে সংসার।

লিখে চিঠি বৈশাখ

কবির মাহমুদ

এই রোদ এই ঝড়, নীল রঙ আকাশে

চারদিকে ঘোর কালো

মেলে ডানা পাখা-সে।

সবুজের সমারোহে, গাছপালা মুড়িয়ে—

ফুলপাখি জাগে সব

নবরঙ কুড়িয়ে।

গগনের গুড়গুড়ি, বিজলীরা চমকায়-

বাইরে যেতে মানা

ছাতা নিতে ধমকায়!

চৈত্রের মন কালো, বিদায়ের বিষাদে-

বৈশাখ লিখে চিঠি

বছরের হিস্যা দে!

গাছে গাছে আম জাম, কাঁঠালের স্ব-ঘ্রাণে

আনন্দে উৎফুল

সজীবের স্ব-প্রাণে।

চৈত্রের পানি-ভাতও, ইলিশের হর্ষে-

মেতে ওঠে বটতলা

প্রতি নববর্ষে!

নতুন বছর

আশা মনি

নতুন বছর এলো ধরায়

এলো নতুন তরী,

পাপ-পঙ্কিল সরিয়ে এসো

সঠিক জীবন গড়ি।

হিংসা আর অহংকারকে

তীব্র ঘৃণা করি,

সত্য-মিথ্যা বুঝে জীবন

ফুলে ফুলে ভরি।

গরিব দুঃখীর পাশে থাকি

মুখে হাসি দিয়ে,

জন্মভূমি ভালোবাসি

খালেছ হৃদয় নিয়ে।

স্বপ্নগুলো আঁকড়ে বাঁচি

এই পৃথ্বীর মাঝে,

ইনসাফের বীজ চাষ করি

সকাল, বিকাল সাঁঝে।

বৈশাখী স্মৃতি

ইমদাদুল হক হেলালী

আগের মতো এখন আর

বৈশাখী ঝড় হয় না,

বৈশাখ মাসে বিকেল বেলা

দমকা হাওয়া বয় না।

আম-জাম-কাঠাল বন

মৌ-মৌ গন্ধে,

পাখপাখালির গান ছিল

সুমধুর ছন্দে।

ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে

দুরন্ত সব মিলে,

ধরতাম কতো টেংরা পুটি

গাঁয়ের হিজল বিলে।

ঝড়ের দিনে আম কুড়ানোর

সেই মজাটা নাই,

তোমরা বলো হারানো দিন

কোথায় খুঁজে পাই।।

বৈশাখের রূপ

নকুল শর্ম্মা

চৈত্র শেষে বৈশাখ এলো

আকাশ কালো করে,

ঝড়ো হাওয়া বইছে জোরে

গাছের পাতা ঝরে।

বৃষ্টি এলো তারই সাথে

টাপুর টুপুরটুপুর,

হারিয়ে গেলো অন্ধকারে

রোদ মাখা সেই দুপুর।

মেঘের ফাঁকে বিজলি খেলে

বুকে জাগে ভয়,

বজ্রপাতে আকাশ কাঁপে

কখন কী যে হয়।

পাখপাখালি যে যার মত

এদিক সেদিক চলে,

কিচিরমিচির শব্দ করে

কী জানি কী বলে।