চোখের আড়ালে

হেলাল আনওয়ার

তুমি খামচে ধরেছো আমাকে।

যেমন কাঁকড়া, শক্ত-লম্বা তার

দুটি হাত দিয়ে কামড়ে ধরে

বিপদ বুঝে।

আমিতো একসময় তোমাকে

আমার কপাল বলে গর্ব করতাম।

কী নিয়তি আমার!

যে হাত দিয়ে খামচে আমাকে

রক্তাক্ত করতে চেয়েছো

সে হাত হতে কেবল ভালোবাসা

পাবার আশা ছিলো।

তোমার ভেতর অসংখ্য রোগ

কচুর লতিকার মতো চারপাশে

গজিয়ে উঠেছে।

ভঙ্গুর মাটির পাত্রের মতো সহসা

কেমন চূর্ণ হচ্ছে বিনয় বহর।

তুমি খামচে ধরেছো।

চোখ মেলে দেখ নিজেই কেবল

রক্তাক্ত হচ্ছ চোখের আড়ালে।

আর ভুলের মাশুল গুণতে গুণতে

ক্রমশ রক্তশূন্য পান্ডুরদশায়

নিপতিত হচ্ছো।

তারপর ঝড়ে পড়া বৃক্ষের মতো

নূয়ে পড়ছো।

ততক্ষণে স্বমহিমায় আপন আলোটুকু

আস্তে-ধীরে মিশে গেল অন্ধকারের পেটে।

বৈশাখী ট্রেন

তাজ ইসলাম

সময়ের ট্রেনের পরিত্যক্ত বগি হয়ে

পিছনে চলে গেছে বিগত বছর।

বৈশাখ এসেছে রেলের ইঞ্জিনের মত

আম কুড়ানো সুখে

ঝড়ের শরীর বেয়ে নেমে আসা শিলা ছুঁয়ে

পাকা ধান খেতের আল ধরে এগিয়ে যাবে আমার বাংলাদেশ।

বিষণ্ন সুখ

আনজানা ডালিয়া

মায়া একবার হৃদয়ে জন্ম নিলে

মৃত্যু অব্দি তা কাটানো যায় না

এই যেমন নিস্তব্ধ রাতে হারিয়ে যাওয়া

মানুষটার নাম জপি

কেউ শোনে না, কেউ জানে না

জানে শুধু পোড়া হৃদয়।

ছোটছোট কতো না বলা কথা জমে গেছে বুকে

কখনও বলা হবে না আর হয়তো

প্রিয় মুখটা খুঁজে ফিরি বিষন্ন সুখে।

আন্ধারের নামতা

সাগর আহমেদ

বুকের সলিতা পুইড়া ধপ কইরা নিব্বা যায় কুপিবাতি,

চাইরধারে নাইমা আসে এক মরা আন্ধার

যে আন্ধারের পেটে জইমা থাকে মরণের নামতা।

নষ্ট মনে একলা আমি নিজেরেই হাতড়াই;

বাইরে চাইয়া দেহি জোনাক পোকা উড়ে তার রঙিন আলো জাইল্লা,

সেই রঙিন বাতির আলোয় ঘরটা তো আর ফর্সা হয় না!

এই আন্ধারে নিজের ছায়াটাও পর হইয়া যায়,

বুকে জইমা থাকা পাথরগুলা নিঝুম রাইতে কথা কয়;

কেউ নাই পাশে, খালি একলা প্রাণের হাহাকার

নদীর চরের মরা বালুর মতো উইড়া বেড়ায় দীর্ঘশ্বাস।

আমি এক আউলা মানুষ, রাইতভর দুক্কের ঘেরাণ শুঁকি;

বেইন্নালা চালের ফুডার আলোয় ঘুমটা ভাইঙা যায়, রাঙা চোখে সূর্য দেহি,

সূর্যের সেই তাপে পরাণ পোড়ে, আমি পুড়ি;

পুড়তে পুড়তে জানি এক আসমানহীন দুনিয়ায় পইড়া আছি।

একাকী ছুটে চলে

সাজ্জাদ সাদিক

শান্ত নদীর মতো এক জীবন প্রবাহিনী

উচ্ছ্বাসহীন তার সময়ের স্রোত,

বহন করে শঙ্কাহীন ঝঞ্ঝাহীন এক স্বপ্নতরী

সে তরী আমার একাকী নিভৃতে ছুটে চলে

অনিবার্য এক গন্তব্যের দিকে , মৃদু বাতাসে ।

জোয়ার নেই , জলোচ্ছ্বাস নেই

তবে তোলা আছে পাল ,

কূলের সাথে তার ভাঙা-গড়ার হিসেব নেই

সে জীবন কেবল একা পথে হাঁটে ;

একাই তো জন্ম, আর একাই তো মৃত্যু ।