পতনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই শেখ হাসিনা ৫ আগস্টের আগেই তার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়েছিলেন। সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তিনি ৫ আগস্ট ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। তবে তিনি ভারতে পৌঁছার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী রাজনীতি অনেকটা উসকানী নির্ভর হয়ে পড়ে। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই ‘চট করে’ দেশে ঢুকে পড়ার ঘোষণা দিয়ে সে উসকানীর সূত্রপাত ঘটান। তখন থেকেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃসহ পলাতক সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের উস্কানীর রাজনীতি অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার প্রত্যয়ে ঘোষণা সে জ¦ালানো আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বোদ্ধামহল তার এ বক্তব্যকে রাজনৈতিক চাপাবাজী হিসাবেই বিবেচনা করছে। তবে এতে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা যে বিভ্রান্ত হয়ে নিজেরা ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন তা অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
সম্প্রতি আওয়ামী শীর্ষনেতা সহ পলাতকদের উসকানীর মাত্রাটা সকল সময়ের সীমা অতিক্রম করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে থাকা দলটির তৃণমূলের কর্মীরা বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূয়া অ্যাকাউন্ট ও চটকদার প্রোপাগাণ্ডার মাধ্যমে এমন বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আইনি ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফেলছে। ফেইসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া আইডি থেকে উসকানিমূলক ফটোকার্ড ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। দেশে দ্রুত ফিরে আসা বা সরকারবিরোধী বড় ধরনের আন্দোলনের অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। সত্য ও মিথ্যার মিশ্রনে মনগড়া তথ্য দিয়ে কর্মীদের আবেগ ও ক্ষোভকে কাজে লাগানোর করসত করা হচ্ছে। পলাতক নেতারা বিদেশে নিরাপদে থাকলেও দেশের ভেতরের কর্মীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন ও আইনি ঝামেলায় পড়ছেন। অপরিপক্ব ও হটকারী নির্দেশনার ফলে তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
এমনকি ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন করে দলের নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলতে উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এক ফোনালাপে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথোপকথনে তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করার জন্য নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনার এ নির্দেশনায় ক্ষুব্ধ অনেক আওয়ামী লীগ নেতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ, তা কোন ভাবেই বাস্তবসম্মত ছিলো না। নিজে বিদেশে নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে কর্মীদের মধ্যে উসকানী সৃষ্টি ও বিভ্রান্ত করা কারো কাছেই খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ফলে তার নির্দেশমত কোন কাজই হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আওয়ামী শীর্ষনেতা শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লীতে অবস্থান করেই যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে ফোনে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে হবে’। এ নির্দেশে তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে বলেছেন এবং তীব্র হামলা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে উসকানি দিয়েছেন। এমনকি, তিনি বলেছেন, ‘কোনো হামলা হলে পালটা হামলা চালাতে হবে এবং তাদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।’ অথচ তিনি নিজেই নিরাপদ স্থানে পলাতক রয়েছেন। এতে একশ্রেণি আবেগী কর্মীরা বিভ্রান্ত হলেও তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে। ফলে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা।
মূলত, দলের অভ্যন্তরে অনেক নেতাকর্মী এ ধরনের উসকানির জন্য ক্ষুব্ধ। অনেকেই বলছেন, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে নিরাপদ অবস্থানে থেকে দেশের নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে তাদের নতুন করে মাঠে নামতে উসকানি দিচ্ছেন। তাদের মতে, এ উসকানির মাধ্যমে শেখ হাসিনা শুধু নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা এখন তার এ ধরনের নির্দেশনায় খুব একটা বিভ্রান্ত হচ্ছেন না। এ বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হকও মন্তব্য করে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার দেশের বাইরে নিরাপদে বসে থাকলেও দেশের নেতাকর্মীরা বিপদের মধ্যে পড়ছেন।’ তার ভাষায়, ‘এত বছর ক্ষমতায় থাকার পরও আওয়ামী লীগ নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অনুশোচনা করছে না, বরং তারা এখনও নিজেদের শাসনকে গ্লোরিফাই করছে।’
তবে একথা অস্বীকার করা যাবে না যে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া নেতৃত্বের উসকানির ফাঁদে পড়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা আবেগ তাড়িত হয়েই উসকানীর ফাঁদে পা দিয়ে নানাবিধ আইনি জটিলতা মুখোমুখি হচ্ছেন। কারণ, দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়ে সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে চটকদার ফটোকার্ড এবং কন্টেন্ট তৈরি করে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজ করছে। ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগীরা অর্থনৈতিক সেক্টরকেও অস্থিতিশীল করতে তৎপরতা চালাচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করার মধ্য দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে আওয়ামী লীগকে কার্যত প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার সাথে এসবের কোন মিল থাকছে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নজিরবিহীন পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন তদানীন্তর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় তার সরকার ও দলের মন্ত্রী, এমপি ও শীর্ষ নেতৃত্বসহ অন্তত কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিরাপদ আশ্রয়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশে পাড়ি জমান। দেশের অভ্যন্তরে যেসব নেতাকর্মী ছিলেন ওই সময় তাদের বেশিরভাগই আত্মগোপনে চলে যান। সম্প্রতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরা সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। হাসিনার ওই ঘোষণার পরই আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আপা আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’ স্লোগানে ঝড় তুলছে।
সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লন্ডন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিদেশে পালিয়ে থাকা সাবেক আইনমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বের কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ পতিত সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত কয়েকটি উসকানিমূলক পোস্ট করেছেন, যেগুলো এ দেশে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাব ফেলছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বিদেশে পালিয়ে থাকা নেতারা এ দেশে অবস্থান করা নেতাদের সাথে বিভিন্ন ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কয়েকটি গ্রুপও সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় রয়েছে। তাদের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপে তথ্যের আদান প্রদানও করা হয় এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের এখনো পতিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বিভিন্ন নির্দেশনা পালন করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই নির্দেশনা পেয়ে মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় একযোগে ঝাপিয়ে পড়ে তারা এবং ঝটিকা মিছিল ও গোপন বৈঠক করে নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
সূত্র মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেশে ও বিদেশে পলাতক নেতাকর্মীরা অন্তত দেড় হাজার থেকে দু’হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছে। এসব একাউন্টের মাধ্যমে সারাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরে খুন, হত্যা ধর্ষণ কিংবা মব ভায়োলেন্সের মতো কোনো ঘটনা ঘটার আগেই ওইসব ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো আগে থেকেই সক্রিয় থাকছে। ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই ফুলিয়ে-ফাপিয়ে গুজব ছড়িয়ে ঘটনাকে ভিন্নমাত্রা দেয়ার জন্য একটি হাইপ তুলে দেয়া হচ্ছে। মূলত, এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরি সহ পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে গণরোষ সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনকি সাধারণ মানুষকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ আমল বর্তমান সময়ের চেয়ে ভালো ছিলো।
ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একের পর এক ইস্যু তৈরি করে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। কখনো আনসারদের দাবি-দাওয়া আদায় করার নামে, আবার কখনো অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে। মাঠে নামানো হয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিকদেরও। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোরনীতির কারণে তাদের এসব তৎপরতা ওই সময় বেশিদূর আগাতে পারেনি। পতিত দলটি এখন রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করার জন্য লোকবল সঙ্কটে সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নিয়েছে। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করতে নানা ন্যারেটিভ তৈরি করে আলোচনায় থাকার কৌশল বেছে নিয়েছে তারা। তবে তাদের কোন অপতৎপরতাই হালে পানি পাচ্ছে না বরং তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে গণরোষের সৃষ্টি হচ্ছে।
এসব আওয়ামী অপতৎপরতায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এক সময়কার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমেদ সোহেল তাজ তার ফেসবুকে এক পোস্টে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে লিখেছেন, ‘ইদানিং শুনছি যে ছাত্র-জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন নাকি আবার দেশে ফেরার কথা বলছেন। তিনি আসবেন ভালো কথা কিন্তু আমার কথা হচ্ছে যে একজন মানুষ কত নির্লজ্জ/বেহায়া হলে তার সব কৃতকর্মকে অস্বীকার করে মানুষকে এবং দলকে বিভ্রান্ত করে এখন ফিরে আসার অবাস্তব স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ও নিজের ভুল স্বীকার না করে, কোনো অনুশোচনা, আত্মসমালোচনা না করে বরং একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগ দলটিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন এবং দেশের মানুষকে একটি অন্ধকারের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি আরো লিখেছেন, ‘ইতিহাস বলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত স্বৈরাচারের আবার ফিরে আসা এবং ক্ষমতা ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
পৃথিবীর ইতিহাসে তিনজন সফলভাবে ফিরে আসতে পেরেছিলেন : প্রথম জন ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের গুইতালিও ভার্গাস, দ্বিতীয় হচ্ছে ৭০৫ সালে বিজান্টিন সম্রাট জাস্টিনিয়ান (২য়) এবং (১৮৩৩- ৫৫) মেক্সিকোর এন্টোনিও লোপেজ ডি সান্টা আনা। উল্লেখ্য, এদের সবাইকে সামরিক অভ্যুথানে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জনগণ একটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করেছে এবং তিনি বাধ্য হন পালিয়ে যেতে। এ কথা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই যে, তার সরাসরি নির্দেশে শিশুসহ শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়, ৬০০ মানুষ অন্ধ হয়ে যায় এবং হাজার হাজার নিরীহ মানুষ পঙ্গু হয়। তিনি ফিরে আসতে পারেন ঠিকই কিন্তু ক্ষমতায় যাবেন না-যাবেন জেলে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে শেখ হাসিনা এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এখন দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার ওই উসকানির ফাঁদে তারা পা দিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন, ঝটিকা মিছিল করছেন, গোপন বৈঠক করছেন আর এ সবের কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করবে-এটাই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনার উসকানির ফাঁদে পা দিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখা পতিত দলের নেতাকর্মীদের পরিবারও ক্ষতির মুখে পড়বে। মূলত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টই আওয়ামী লীগের কবর রচনা হয়েছে। শেখ হাসিনা যে দেশে আর স্বাভাবিকভাবে ফিরতে পারবে না তা পতিত দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা যত তাড়াতাড়ি বুঝবে তাদের জন্য ততই মঙ্গল।
মূলত, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এখন গুজব ও উসকানী নির্ভর রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বোদ্ধামহল মনে করে যে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোন সম্ভবনা নেই। তার বয়স ও শরীর-স্বাস্থ্যও এক্ষেত্রে অনুকূল নয়। আসলে তিনি ক্ষমতা হারানোর বেদনায় রীতিমত আর্তনাদ-আহাজারী শুরু করেছেন। যার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। বিপ্লবীরা তো তার পদত্যাগ চেয়েছিলেন। তাকে তো পালিয়ে যেতে বলেন নি। তাই তিনি ইচ্ছা করলে যখন-তখনই দেশে ফিরে আসতে পারেন। এতে রাজনৈতিক উম্মাদনা সৃষ্টির কোন প্রয়োজন নেই। তবে তাকে অবশ্যই আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
শুধুমাত্র বাস্তবতাবিবর্জিত উসকানী সৃষ্টি করে পতিত ফ্যাসিবাদের পক্ষে দৃশ্যপটে ফেরার চিন্তা কল্পনাবিলাস বৈ কিছু নয়। এতে সাময়িক কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি করা গেলেও ফলাফল হবে অশ্বডিম্ব। এতে কোন সন্দেহের নেই।
www.syedmasud.com