এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী এমপি
সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী আসন -৩৯)
২৪ এর জুলাই বিপ্লব একটি জাতীয় চেতনার নাম! ৩৬ জুলাই বিপ্লব স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপামর ছাত্র জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণের নাম।
৩৬ জুলাইয়ের স্বাধীনতা’
নতুন বলয়ে, নতুন অক্ষরে লিখা!
’৭১ দেখেনি যে নতুন প্রজন্ম,
রক্তের বিনিময়ে দেখেছে ২৪ এর বিজয় গাঁথা!
শত শত আবু সাঈদ আর মুগ্ধের আত্মদান,
২৪ এর স্বাধীনতায় পেয়েছে এক নূতন প্রাণ!
৩৬ জুলাই এক বিষ্ময়কর গণঅভ্যুত্থানঃ
৩৬ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, বিশ্বের বুকে একটি বিষ্ময়কর গণঅভ্যুত্থানের নাম যা কোটি কোটি মানুষের বুকে এক নূতন আশার সঞ্চার করেছিল। বছরের পর বছর ক্রমশ ঘনীভূত হতে থাকা অন্যায় অসন্তোষের কালো মেঘ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অপসারিত হয়েছে। নিকোষ কালো এ মেঘ স্বৈরতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে কালবৈশাখীর রূপ ধারণ করেছিল যা মুহূর্তে লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল দীর্ঘ সময় ধরে কুক্ষিগত করে রাখা ক্ষমতার তখতে তাওস ।
২০২৪ এর জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র জনতা বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছে । সীমাহীন দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক এই গণঅভ্যুত্থান বিজয়ের সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। পরে স্বৈরাচারের কঠোর ও অনড় অবস্থানের কারণে এ আন্দোলন আরো প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে ২৪ এর ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। দুহাজারেরও বেশী মানুষকে হত্যা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার শেষ চেষ্টা চালায়। জনতার রোষে অবশেষে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ইতিহাসের অত্যাচারী ক্ষমতালোভী লেডী হিটলার। জুলাই গণঅভ্যুত্থান তাই ইতিহাসে ঘটে যাওয়া ছাত্রদের বিপ্লবগুলোর পুঞ্জীভূত শক্তির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
ইতিহাসের গতিপথে যে ঘটনা জাতির ভবিষ্যৎ অভিযাত্রাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেঃ
ইতিহাসের গতিপথে কিছু কিছু ঘটনা জাতির রাজনৈতিক চেতনা, রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ অভিযাত্রাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই বিপ্লব তেমনই একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের নাম নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চণা, গণতান্ত্রিক অধিকারহীনতা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার সংকটের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত অভিব্যক্তি। বিশেষত ,তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ একে একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করেছে।
আজ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নগুলো আসেঃ
১.জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষাগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?
২.রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতন্ত্র পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমরা কি পদক্ষেপ গ্রহন করতে পেরেছি ?
সংকট থেকে গণ বিস্ফোরণ
কোনো গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ সৃষ্টি হয় না; এর পেছনে দীর্ঘদিনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করে। জুলাই বিপ্লবের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
দীর্ঘ সময়ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশঃ গুমোট হয়ে উঠেছিল! বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। একইসঙ্গে প্রশাসনের দলীয়করণ, লাগামহীন দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারিতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়ে তুলেছিল।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। বিশেষত তরুণ সমাজ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এসব কারণ সম্মিলিতভাবে একটি বিস্ফোরণমুখী পরিস্থিতি তৈরি করে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মাধ্যমে।
বর্তমান নূতন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নূতন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কার, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক কেন্দ্রিকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।
তবে বিপ্লবের দুই বছর পর বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে এখনও একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সংস্কার কার্যক্রম কাক্সিক্ষত গতি লাভ করেনি। বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তনের প্রশ্নে এখনও নানা বিতর্ক বিদ্যমান।
সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং মেরুকরণের প্রবণতা পুরোপুরি দূর হয়নি।
বিপ্লবের মূল চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশাঃ
জুলাই বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চারটি মৌলিক আকাক্সক্ষা। সেগুলো হচ্ছে-
১.একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
২., প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার।
৩.মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক মর্যাদার নিশ্চয়তা।
৪.দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
জনগণ বিশ্বাস করেছিল যে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আসবে এবং জনগণ আবারও রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হিসেবে নিজেদের ভূমিকা ফিরে পাবে।
দুই বছরে রাজনৈতিক বাস্তবতা: পরিবর্তন ও সীমাবদ্ধতাঃ
দুই বছর পর রাজনৈতিক বাস্তবতা মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটলেও আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক আলোচনায় এখন সংস্কার একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। নির্বাচন ব্যবস্থা, সংবিধান, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। অতীতে যেসব বিষয়কে প্রায় অচিন্তনীয় মনে করা হতো, আজ সেগুলো প্রকাশ্যে আলোচিত হচ্ছে সেটিও একধরনের অর্জন।
তবে বাস্তব সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি এখনও সীমিত। সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট এবং ক্ষমতার প্রশ্নে মতবিরোধ সংস্কার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা: জনগণের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জঃ
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল অর্থনৈতিক স্বস্তি। কিন্তু গত দুই বছরে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। মধ্যবিত্ত ও নি¤œআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে যে, খাদ্য ব্যয় পরিবারের মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব এখনও উদ্বেগজনক।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
তরুণ সমাজের উত্থান-জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় অর্জনঃ
জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন সম্ভবত রাজনৈতিক সচেতন তরুণ প্রজন্মের উত্থান।
আজকের তরুণরা শুধু ভোটার নয়; তারা নীতি-নির্ধারণ, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করেছে।
বিশ্ব ইতিহাসে দেখা যায়, সফল গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পেছনে সচেতন তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
তবে এ শক্তিকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে পরিচালিত করা প্রয়োজন।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন: আগামীর পথঃ
জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর।
রাষ্ট্র সংস্কারের কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্র হলো
* বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি;
* নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ;
* প্রশাসনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা;
* দুর্নীতি দমন ব্যবস্থাকে কার্যকর করা;
* স্থানীয় সরকারকে অধিক ক্ষমতায়ন;
* সংসদীয় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি;
* মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা দেখায় যে, গণঅভ্যুত্থান পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে; কিন্তু টেকসই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের অবস্থান
জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর আগ্রহের সৃষ্টি করে। উন্নয়ন সহযোগী দেশসমূহ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যম বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।তাই
বাংলাদেশের সামনে এখন একটি সুযোগ রয়েছে গণতান্ত্রিক সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। ফলে অভ্যন্তরীণ সংস্কার আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ইতিহাসের শিক্ষা
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন সময় বিপ্লব-পরবর্তী সময়। ফরাসি বিপ্লব, পূর্ব ইউরোপের গণতান্ত্রিক রূপান্তর কিংবা আরব বসন্ত সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, শাসক পরিবর্তনের চেয়ে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ অনেক বেশি জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই শিক্ষা প্রযোজ্য। জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত মূল্যায়ন শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই হবে না বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা শক্তিশালী হলো, নাগরিক স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত হলো এবং জনগণের অংশগ্রহণ কতটা নিশ্চিত হলো তার ভিত্তিতেই এর সাফল্য নির্ধারিত হবে।
জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি বাংলাদেশের জন্য আত্মসমালোচনা
আত্মমূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই বিপ্লব জনগণের মধ্যে য়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে তা হলো রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয়ভাবে একাত্মতা যেটা গণভোটের রায়ের মাধ্যমে জনগন মেন্ডেট দিয়েছে। সংস্কারের প্রশ্নে সরকারের গড়িমশি দেশকে সুগভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে॥
তাই প্রত্যাশিত পরিবর্তনের পথ এখনও দীর্ঘ। রাজনৈতিক ঐকমত্য, কার্যকর সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হবে, যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে জবাবদিহি হবে, নাগরিক অধিকার নিরাপদ হবে এবং গণতন্ত্র কেবল সংবিধানের পাতায় নয়, বাস্তব জীবনেও প্রতিফলিত হবে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপ্লবে জনতার আবেগ ও চাওয়া পাওয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া এবং একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে অগ্রসর হওয়া।