২০২৪ সালের জুলাই মাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অগ্নিঝরা অধ্যায়। কোটা সংস্কারের দাবি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মুহূর্তেই রূপ নেয় এক বিশাল গণঅভ্যুত্থানে। সেই উত্তাল সময়ে খুলনার রাজপথও প্রকম্পিত হয়েছিল তারুণ্যের স্লোগানে। কিন্তু সেই আন্দোলনের উত্তাপ শুধু স্লোগান আর রাজপথের অবরোধে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা মিশে গেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনন্য স্মারকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, যা একসময় ‘বিজয় তোরণ’ নামে পরিচিত ছিল, তা আজ শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের নাম ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে সময়ের সাক্ষী হয়ে। সারাদেশে ৫ আগস্ট চূড়ান্ত বিজয়ের উল্লাস ছড়িয়ে পড়লেও, খুলনায় ছাত্র-জনতা এর স্বাদ পেয়েছিল একদিন আগেই। ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদফা দাবি আদায়ের মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছিল খুলনা মহানগরী। ওইদিন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে কার্যত ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিনের ‘আওয়ামী দুর্গ’। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
শিববাড়ি মোড়ে (বাবরী চত্বর) ঐতিহাসিক জমায়েত : সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৪ আগস্ট সকাল থেকেই নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জড়ো হতে থাকেন ছাত্র-জনতা। বেলা ১১টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল মিছিল শিববাড়িতে যোগ দিলে তা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রায় ২০ হাজার মানুষের উত্তাল মিছিলে ‘দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিব রক্ত’Ñএমন গগণবিদারী স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
আওয়ামী লীগের প্রতিরোধ ও পতন : ৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ খান এ সবুর রোডের ঐতিহাসিক শহীদ হাদিস পার্কের পাশে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তৎকালীন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি ও সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পরই আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা এবং মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে আন্দোলনকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আহত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার এবং খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)’র কাউন্সিলর কনিকাসহ আরও ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। একই দিন দুপুরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরীর শেরে বাংলা সড়কের ‘শেখ বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত সেসময়কার সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করে।’
৪ আগস্ট (রোববার) দুপুরে আন্দোলনকারীরা একটি মিছিল নিয়ে নগরীর শেরে বাংলা রোড়ের শেখ বাড়ির সামনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় ওই বাড়ির সামনে কোন পুলিশ বা নেতাকর্মী ছিল না। একপর্যায়ে তারা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা ভবনের প্রতিটি তলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিকেল পৌণে তিনটার দিকে আগুন নিভে গেলে বেশ কিছু পুলিশ ও এপিবিএন-এর সদস্যরা বাড়িতে আসেন। পরে যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাড়ির সামনে আসতে দেখা যায়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই বাড়িতে আরেক দফা হামলা হয়।
৪ আগস্ট পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকে খান এ সবুর রোডের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিছু আন্দোলনকারী পিকচার প্যালেস মোড় থেকে অগ্রসর হতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় দুই পক্ষের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে ককটেল ও গুলীর শব্দ পাওয়া যায়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ধাওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিছু হটে। আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুুর চালায় এবং আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। কার্যালয়ের নিচে বেশকিছু মোটর সাইকেলেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের পর আন্দোলনকারীরা নৌপরিবহণ মালিক গ্রুপের ভবনে ভাঙচুুর চালায়। শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল সংগঠনটির সভাপতি ছিল। পরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ নগর ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ভবনের কিছু গ্লাস ভেঙে যায়। তারা খুলনা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে প্রবেশ করে সামনে থাকা ৪টি মোটর সাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেয়। দুপুর দেড়টায় তারা খুলনা প্রেসক্লাবে ভাঙচুুর চালায়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিতে আরেক দফা ভাঙচুুর করে প্রেসক্লাবের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অপরদিকে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেকের বাসভবনে হামলাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত প্রায় ঘণ্টা ব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় উভয়পক্ষের ৩৫ জন আহত হয়। আহত ২৫ আন্দোলনকারীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে অনেকেই গুলীবিদ্ধ। এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় মেয়রের বাড়িতে আরেক দফা হামলা চালায় আন্দোলনকারীরা। ওই সময় বাড়ির সামনে একটি মোটর সাইকেল ও চেয়ার ভাঙচুর করে। পার্শ্ববর্তী খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদের বাড়ি ভাঙচুুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে।
খুলনার রাজপথে যে উত্তাল দিনগুলো : ১৮ জুলাই থেকে খুলনার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে (বাবরী চত্বর) সমবেত হন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো খুলনা শহর। খুলনা-যশোর মহাসড়ক, সোনাডাঙ্গা, ময়লাপোতা ও রূপসা সড়ক পরিণত হয় প্রতিবাদী জনসমুদ্রে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিলÑ‘কোটা দিয়ে বৈষম্য নয়, বৈষম্যমুক্ত দেশ চাই’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না।’ রাজপথ প্রকম্পিত করা এসব স্লোগানে সেদিন ছিল অধিকার আদায়ের দৃঢ় সংকল্প। কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়, ছিল পুলিশের কড়া নজরদারি। এমন ক্রান্তিলগ্নে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হলেও, তারুণ্যের জোয়ার তখন বাঁধ মানেনি।
স্মৃতিচারণে ছাত্র প্রতিনিধি : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত বলেন, সেদিন সকাল থেকেই ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলার খবর পেয়ে আমরা আত্মরক্ষার্থে লাঠি ও রড নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু জনস্রোতের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।” তিনি আরও জানান, ওইদিন শেখ হাসিনার পতনের বিভ্রান্তিমূলক গুজব ছড়িয়ে পড়লেও, ছাত্র-জনতা দমে না গিয়ে রাজপথ দখলে রাখে এবং চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে পরবর্তী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ৪ আগস্টের এই অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান খুলনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে চিরতরে বদলে দেয়, যা পরবর্তীতে ৫ আগস্টের চূড়ান্ত বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে।
এক তারুণ্যের লড়াই ও মানবিকতার প্রতীক : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। ২০১৮-১৯ সেশনের (১৯ ব্যাচ) এই মেধাবী ছাত্র একইসঙ্গে ছিলেন মানবিকতার মূর্ত প্রতীক। জুলাইয়ের সেই উত্তাল ১৮ তারিখে ঢাকার উত্তরায় পুলিশের গুলীতে প্রাণ হারান তিনি। তাঁর মৃত্যুর আগে উচ্চারণ করা শেষ কথাগুলোÑ‘ভাই, পানি লাগবে কারও? পানি!’Ñআজ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে মানবিকতার এক অমর স্লোগান হয়ে বেজে ওঠে।
মুগ্ধের এই অকাল প্রয়াণ কেবল তাঁর পরিবারের নয়, স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা চেয়েছিলেন তাদের সতীর্থের ত্যাগ যেন কোনোভাবেই বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে না যায়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত দাবির প্রেক্ষিতে ১৭ আগস্ট প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে তারা দাবি জানানÑ‘মুগ্ধ ভাই আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে চিরকাল।’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের আবেগের প্রতি সম্মান দেখায়। সিন্ডিকেটের ২৩০তম সভায় তোরণটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শহিদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ হিসেবে অনুমোদন করা হয়। ২০২৫ সালের ৯ মার্চ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এই তোরণের নামফলক উন্মোচন করেন। এটি এখন কেবল একটি প্রবেশপথ নয়, এটি মুগ্ধের মতো হাজারো শহিদের সাহসিকতা ও ত্যাগের এক উজ্জ্বল স্মারক।
এক মানবিক জীবনের সমাপ্তি : মুগ্ধ কেবল একজন শিক্ষার্থী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরোপকারী। ১৮ জুলাই যখন উত্তরায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার খবর আসে, তখন তিনি বসে থাকেননি। বন্ধু নাইমুর রহমান আশিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন আহতদের সহায়তা করতে। তাদের পানি ও খাবার সরবরাহ করছিলেন তিনি।
বন্ধু আশিকের স্মৃতিচারণায় সেই ভয়াবহ মুহূর্তটি উঠে আসেÑ‘হঠাৎ দেখলাম সবাই দৌড়াচ্ছে। মুগ্ধের পায়ের ওপর হাত রেখে বললাম চল দৌড় দেই। কিন্তু কয়েক কদম যাওয়ার পরই দেখি আমার পাশে মুগ্ধ নেই। ফিরে তাকিয়ে দেখি, সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, হাতে তখনও পানির বোতল।’ এটি ছিল দেশের একজন মেধাবী সন্তানের জীবনের করুণ সমাপ্তি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুগ্ধের যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ জানান, তাঁর ভাই রাজনীতির চেয়ে মানুষের অধিকারের প্রশ্নে বেশি সোচ্চার ছিলেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থী বিইউপিতে এমবিএ পড়ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের খরচ চালাতেন। স্কাউটিংয়ের জন্য পেয়েছিলেন ‘ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’।
মুগ্ধের জীবনদর্শন ছিলÑ‘জীবনটা বড় হওয়া দরকার, লম্বা নয়।’ তিনি তাঁর ত্যাগের মাধ্যমে সেই কথারই প্রমাণ রেখে গেছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “মুগ্ধের জীবন উৎসর্গের মাধ্যমেই ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই তোরণ আমার কাছে আবেগের একটি জায়গা।” বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুধু তোরণের নামকরণই করেনি, ক্যাম্পাসে ‘মুগ্ধ পানি কর্নার’ স্থাপন করেছে এবং প্রতিটি ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা মুগ্ধের রেখে যাওয়া মানবিকতার বার্তা বহন করে।
মুগ্ধের রুমমেট রবিউল আলম ভূঁইয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “মুগ্ধ ছিল বন্ধুত্বের এক অনন্য নাম। এমন কেউ ছিল না যে তার কাছে সহযোগিতা চেয়ে ফিরে গেছে। সে চেয়েছিল ন্যায্য দাবিতে পাশে থাকতে, কিন্তু ফিরে এল তার নিথর দেহ।”
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ। এই আন্দোলনে মীর মুগ্ধ, সাকিব রায়হান, ইয়াসিন আলীর মতো হাজারো প্রাণ ঝরে গেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহিদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ আজ শুধু একজন শহিদের নাম নয়, এটি নতুন প্রজন্মের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার অনুপ্রেরণা। মুগ্ধের বন্ধু মেধা যথার্থই বলেছেন, ‘আমরা মুগ্ধের মৃত্যুকে কোনো মুখরোচক গল্পে পরিণত করতে চাই না। আমরা চাই দেশের এই মেধাবী সন্তানের হত্যাকান্ডের বিচার হোক।’
খুলনার এই আন্দোলন এবং মীর মুগ্ধের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মের কাছে একটি বার্তার মতোÑদেশপ্রেম ও মানবিকতার পথ কখনো বৃথা যায় না। এই তোরণ দাঁড়িয়ে থাকুক সেই সাহসের প্রতীক হয়ে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় মনে করতে পারেÑদেশ ও দশের প্রয়োজনে আত্মত্যাগের চেয়ে বড় কোনো বীরত্ব নেই।