মূলত, কোটা সংস্কারে ২০১৮ সালে সরকার কর্তৃক জারি করা সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ৫ জুন ২০২৪ সালে। ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে এবং বিভিন্ন শ্রেণীর লোকদের জন্য ৫৬% চাকরি সংরক্ষণ করার সুবিধা দেওয়ার কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে । ৬ জুন ২০২৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সহ ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে।
২৪ শের জুলাই যেভাবে ৩৬শে মাস হলো
১ জুলাই- ঈদুল আযহা সহ চব্বিশ দিনের বিরতি শেষে পুন শুরু হল কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে এক সমাবেশে কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
২ জুলাই- ১তাং এর সমাবেশের ঘোষণানুযায়ী বেলা আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে গণপদযাত্রা শুরু হয়। এতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ শিক্ষার্থীরাও একই সময় কর্মসূচি পালন করে থাকে।
৩ জুলাই- এই দিনে ঢাকার শাহবাগ মোড় দেড় ঘন্টা অবরোধ করে রাখা হয় এবং আরো ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় বিক্ষোভে শামিল হয়।
৪ জুলাই- সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র ঘোষণার বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ে আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ “নট টুডে” আদেশ জারি করেন।
৫ জুলাই- শুক্রবার ছুটির দিনেও ছাত্রদের অবরোধ অব্যাহত থাকে চট্টগ্রাম, খুলনা, গোপালগঞ্জ সহ দেশের আরো অনেক অঞ্চলে।
৬ জুলাই-ছাত্ররা সম্পূর্ণ নতুন এক অভিনব কর্মসূচি ঘোষণা করে যার রাজনৈতিক পরিভাষা “বাংলা ব্লকেড।” এইদিন ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে সারাদেশে সড়ক -মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেয়া হয়। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা চার দফার ঘোষণা করে।
এই দিন থেকে শুরু হয় স্লোগান “কোটা না মেধা /মেধা মেধা।” “তারুণ্যের হাতিয়ার/ গর্জে উঠুক আরেকবার।”
৭-৮ জুলাই: সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে তীব্র আন্দোলন অব্যাহত থাকে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ ও পরীক্ষা বিবর্জিত হয়। “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” নামে ৬৫ সদস্যের সমন্বয়ক টীম গঠিত হয়। ঢাকার ১১ টি স্থানে অবরোধ, ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, তিনটি স্থানে রেলপথ অবরোধ ও ছয়টি মহাসড়ক অবরোধ চলে।
৯-১০ জুলাই : হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থী আবেদন জানায় এবং প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরাও যোগ দেয় উক্ত আন্দোলনে এবং “বাংলা ব্লকেড” কর্মসূচি অব্যাহত রাখে।
১১ জুলাই : এদিন পুলিশের বাঁধার মুখেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ হামলা করে এবং শিক্ষার্থী সহ অন্তত: ২০ জন আহত হয়।
১২ ও ১৩ জুলাই : শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত গতিতে চলতে থাকে।
১৪ জুলাই: ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। কিন্তু এই দিন ঘটে যায় আরেক অনভিপ্রেত ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের আন্দোলনকে কোন রকম তোয়াক্কা না করেই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদেরে বলে বসেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা চাকরি পাবে?” আরো বলেন ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনে বিরক্ত হয়েই তিনি কোটা বাতিল করে দিয়েছিলেন। এতে ছাত্ররা অপমান বোধ করে এবং স্লোগান তোলে “তুমি কে আমি কে/ রাজাকার রাজাকার”, “কে বলেছে কে বলেছে /স্বৈরাচার স্বৈরাচার, কখনো বা বিকল্প বিকল্প “চেয়েছিলাম অধিকার/ হয়ে গেলাম রাজাকার। “ ওদিকে সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ৪ জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিতে অপারেটরদেরকে নির্দেশ দেয়।
১৫ জুলাই : এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলা, মারধর ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৯৭ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা নেয়।
১৬ জুলাই : আজ সারা দেশে ভয়ংকর তাণ্ডব চালায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ সহ সরকার সমর্থকরা। চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম, মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেন শান্ত ও অজ্ঞাত একজন সহ পুলিশের গুলিতে রংপুরের আবু সাইদের শহীদ হওয়া ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। উক্ত ছাত্র বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, নিরস্ত্র অবস্থায় দুই দিকে হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়েছিল -এ দৃশ্য টেলিভিশনে সরাসরি দেখে সমগ্র দেশবাসী উত্তেজনায় ফেটে পড়ে।
১৭ জুলাই : সরকার গ্রামীণফোন কোম্পানি সহ সকল মোবাইল কোম্পানিকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার নির্দেশ দেন, ওদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিতাড়ন করে “রাজনীতিমুক্ত” করণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
১৮ জুলাই : আজ থেকে শুরু হয় “কমপ্লিট শাটডাউনের” কর্মসূচি। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার এই প্রথম ঢাকা সহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করেন। রাজধানী সহ দেশব্যাপী প্রতিরোধ, সহিংসতা, সংঘর্ষ, গুলি অব্যাহত চলে। এতে সেইদিনেই মোট ২৭ জন নিহত, দেড় হাজার আহত হয়। এদিনই বিক্ষোভকারীদের হাতে পানির বোতল তুলে দিতে গিয়ে ঢাকার আজিমপুরে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। অন্যদিকে ধানমন্ডিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ নিহত হয়। রাত ৯ টার পর সারা দেশে সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় সরকার। অপরদিকে মীর মুগ্ধের মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে ধারণ করা ভিডিও থেকে তার ডেকে ডেকে বলা “পানি লাগবে পানি? কারো পানি লাগবে? “এই কথাটি ভাইরাল হয়ে যায়।
১৯ জুলাই : এদিনে সরকারের নগ্নতম হস্তক্ষেপে চলতে থাকে সংঘর্ষ, হামলা, ভংচুর, অগ্নিসংযোগ, গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা। যেহেতু হামলা চালানো হয় আকাশপথে ফলে সাধারণ জনগণ, এমনকি শিশু থেকে বৃদ্ধ, বারান্দা থেকে ছাদ পর্যন্ত আহত বা নিহত হতে বাদ পড়েনি কেউই। সারা দেশে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬ জন। আন্দোলনকারীদের নয় দফা দাবি ঘোষণা হয়। সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, “আমাদের বহু সমন্বয়ককে গুম করে মিডিয়া ট্রায়ালে ব্যবহার করা হচ্ছে। দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চলবে। সরকার গভীর রাতে সারাদেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়ন করেন। ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়। ঢাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়। ঢাকার সাথে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০ জুলাই :দেশ জুড়ে কারফিউ ঘোষণার মধ্যে দুপুর ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত শিথিল রাখা , ২১ ও ২২ শে জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং তৃতীয় দিনের মত ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়।
২১ জুলাই : আপিল বিভাগের শুনানির পর কোটা পুনর্বহাল নিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করা হয়। মেধা ৯৩%, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫%, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা ১%, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ কোটা ১% করার আদেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।তবে সরকার চাইলে বদলানোর সুযোগ রাখা হয়। কিন্তু সমন্বয়করা সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা ‘জরুরি দাবি’ ঘোষণা করে ও ৪৮ ঘন্টার সময় বেঁধে দেয়।
২২ জুলাই : কমপ্লিট শাটডাউন ৪৮ ঘন্টার জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে চার দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আল্টিমেটাম দেয় আন্দোলন কারীরা। ওদিকে সরকারি ছুটির মেয়াদ মঙ্গলবার পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা আসে সরকারের পক্ষ থেকে। কোটা প্রথা সংস্কার করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তৈরি করা প্রজ্ঞাপন অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ ও ২৪ জুলাই : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০১ হয়, বিভিন্ন মামলায় পুলিশ ১,৭৫৮ জনকে গ্রেফতার করে। নিখোঁজ থাকা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয় আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশিদের খোঁজ পাওয়া যায়।
২৫ জুলাই : আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আটটি বার্তা দেওয়া হয়।
২৬ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী এই দিনে বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে যান এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে জনগণের কাছে বিচার চান। তার সে কান্নার ছবি দিয়ে বানানো মিম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, যার ক্যাপশন ছিল;” নাটক কম করো পিউ। “ ওদিকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করায় গভীর উদ্যোগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘ।
২৭ জুলাই : ১১ ঘন্টার জন্য ঢাকায় কারফিউ শিথিল করা হলেও সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যান শেখ হাসিনা। তিনি বিএনপি, জামায়াত, শিবিরের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ করেন। ঢাকায় ১৪ টি পশ্চিমা দেশের কূটনৈতিক মিশন একটি যৌথ চিঠি জারি করে, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অন্যায় কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বলা হয়। এদিনই সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহকেও গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
২৮জুলাই :সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ আটক করে। এবং ডিবি থেকে চাপ দিয়ে সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ায় সমন্বয়কদেরে।
২৯ জুলাই : শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় জোটের সাথে বৈঠকে বসেন এবং এতে জামাত-শিবির কে নিষিদ্ধ ঘোষণা সহ ৩০ জুলাই দেশব্যাপী নিহতদের স্মরণে শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেন।
৩০ জুলা: শোক পালনের আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিবাদ স্বরূপ সকলের ফেসবুক প্রোফাইল লাল করার এবং চোখে কালো কাপড় বেঁধে ছবি পোস্ট করার আহ্বন জানায়। শিক্ষার্থীরা পোস্ট দেয়, “আসছে ফাগুন/আমরা হব দ্বিগুণ।” এবং কর্মসূচি নেয় “মার্চ ফর জাস্টিস।” ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ সমন্বয়ককে মুক্তি দেয়ার জন্য আল্টিমেটাম দেয় ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ ।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ‘মৌন অবস্থান কর্মসূচি’ করতে গিয়ে পুলিশের বাধায় পড়েন একদল চিকিৎসক-অভিভাবক।
৩১ জুলাই : এ দিনে আরও একটি নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ছাত্র আন্দোলন; “রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ।” এদিন থেকেই ঘোষিত হয় পয়লা আগস্ট ২০২৪ হবে ৩২ জুলাই।
৩২ জুলাই : এই ঘোষণা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তি পান বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক। সারা দেশে প্রচুর সংঘাত ও রক্তপাতের খবর আসে।
৩৩ জুলাই : জুমার নামাযের পর ডাকা দ্রোহযাত্রায় মানুষের ঢল নামে। আগামী শনিবার ও রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয় ছাত্র-জনতা।
৩৪ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “তাদের জন্য গণভবনের দরজা খোলা।” কিন্তু সে আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত থেকে ছাত্র সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের ১ দফার ঘোষণা করেন। ঘোষণায় বলা হয়:
*যেহেতু নির্বিচারে গণহত্যা ঘটেছে,
*যেহেতু সরকারের হত্যাযজ্ঞের বিচার করার পরিবর্তে নির্বিচারে ছাত্র-জনতাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে,
*যেহেতু সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত করেছে,
*যেহেতু ছাত্র-শিক্ষক- শ্রমিক -মজুর সহ সাধারণ জনগণ মনে করছে এ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ বিচার এবং তদন্ত সম্ভব নয়;
সেহেতু, “আমরা বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করছি।” “একই সাথে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানাচ্ছি।”
৩৫ জুলাই: সারাদেশে ব্যাপক সংঘাতে ১৪ পুলিশ সহ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয় ২৩ জন সাংবাদিক। জরুরি সিদ্ধান্তে “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি এগিয়ে এনে সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ফেসবুক পোস্টে জানান ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হলো। ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জঙ্গি হামলা হচ্ছে বলে ভয় দেখিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক- সকলকে নিরাপদে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
৩৬ জুলাই: আজ ছাত্র-জনতা -মহিলা-পুরুষ -শ্রমিক- মজুর- শিশু- বয়স্ক কেউ আর ঘরে নেই।”মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঢাকা মহানগরীর চানখাঁরপুল এলাকায় নিহত হয় দশম শ্রেণীর ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস। ঐদিন সকাল থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পুলিশের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা ও গুলি চালায়। কিন্তু সকাল দশটার পর থেকে উত্তরা দিয়ে ঢাকায় ঢুকতে শুরু করে লাখো মানুষ। অবশেষে ঘটে যায় স্বৈরাচারের ঐরাবতের নাটকীয় পরাজয়।
যে মানুষটা এত দাম্ভিক, এত অহংকারী, ক্ষমতালোভী সেই কিনা পালিয়ে যায় হেলিকপ্টার যোগে “আমার বাবার দেশ” নামে খ্যাত নিজ দেশের মাটি ছেড়ে বন্ধু দেশ ভারতের উদ্দেশ্যে। অথচ তিনি কত না মুখ ভেংচি করে বলেছেন, “শেখ হাসিনা পালায় না। “ ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সাড়ে পনর বছর রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান। পদত্যাগের ঘোষণা শোনার সাথে সাথে গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে হাজারো মানুষের ঢল। মিশে যায় এক নিমিষে প্রাচীন হিন্দার তুলতুলে মখমলে সিংহাসন