বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হেড কোচ হিসেবে লাল-সবুজের ডেরায় আসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ কোচ থমাস ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) একটি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, ডুলির সঙ্গে বাফুফের কথা-বার্তা প্রায় চূড়ান্ত। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে কেবল চুক্তিপত্রের আইনি বিষয় ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।সবকিছু ঠিক থাকলে কোচ হিসেবে ডুলির দায়িত্ব নেওয়া বা বাফুফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। কোচ নিয়োগের দৌড়ে শুরুতে ওয়েলসের সাবেক ইউরো-জয়ী কোচ ক্রিস কোলম্যানের নাম বেশ জোরেসোরে শোনা গেলেও, শেষ পর্যন্ত ব্যাটে-বলে মেলেনি বাফুফের।

কোলম্যানের এজেন্টের অতিরিক্ত কমিশন দাবি এবং আকাশচুম্বী বাজেট জটিলতায় সেই আলোচনা থমকে যায়। তাছাড়া কোলম্যান নিজের পুরো বিদেশি কোচিং স্টাফ নিয়ে আসতে চেয়েছেন, যা বাফুফের পরিকল্পনার সাথে মেলেনি। ঠিক এই জায়গাতেই পাশার দান উল্টে দেন থমাস ডুলি। বাফুফের শর্ত অনুযায়ী তিনি দেশি সহকারী কোচ রেখে কাজ করতে পুরোপুরি সম্মতি জানিয়েছেন। ফলে বাজেট ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠেন ৬৫ বছর বয়সী এই জার্মান-আমেরিকান। থমাস ডুলির বাংলাদেশের কোচ হওয়ার গুঞ্জনটি সবচেয়ে বড় ভিত্তি পায় গত ১২ মে। মাত্র ৯ মাস দায়িত্ব পালনের পর আকস্মিকভাবেই গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ফুটবল সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাফুফের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ও এশিয়ান ফুটবলে ফেরার তাড়না থেকেই গায়ানার দায়িত্ব ছেড়েছেন ডুলি।

বাফুফে এবার এমন একজন প্রোফাইল খুঁজছিল, যার এশিয়ান কন্ডিশন এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সমান অভিজ্ঞতা রয়েছে। থমাস ডুলি সেই মানদণ্ডে শতভাগ সফল। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইন জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। তার অধীনেই ফিলিপাইন ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘এএফসি এশিয়ান কাপ’-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল, যার ফলে এশিয়ান ফুটবলারদের মনস্তত্ত্ব ও খেলার ধরন তার খুব চেনা। শুধু কোচিংয়েই নয়, খেলোয়াড় হিসেবেও ডুলির প্রোফাইল বেশ ভারী। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ছিল তার হাতে। এছাড়া জার্মান বুন্দেসলিগায় কাইজারস্লটার্নের হয়ে লিগ শিরোপা এবং উয়েফা কাপ (বর্তমান ইউরোপা লিগ) জেতার গৌরব রয়েছে তার। ডুলির কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় হাইলাইট হলো, তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সঙ্গেও কাজ করেছেন।