দেশের ফুটবলে কয়েকদিন ধরেই চলা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ বুধবার কিংস অ্যারেনাতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফেডারেশন কাপে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি। মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচটি হওয়ার কথা থাকলেও মোহামেডান ভেন্যু নিয়ে আপত্তি তুললে সৃষ্টি হয় জটিলতা। বসুন্ধরার নিজম্ব ভেন্যুতে নয় মোহামেডানের দাবী ছিল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা আয়োজনের। বিষয়টি নিরসনে জরুরী বৈঠক শেষে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল চিঠি দিয়ে ফাইনালের নতুন তারিখ ও সময় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে জানিয়েছেন।
তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে ম্যাচ ঘিরে আলোচনায় বেশি জায়গা দখল করেছে দুই ফাইনালিস্টের অবস্থান ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন। সব নাটকের পরও ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ফাইনালে খেলতে রাজি হয়েছে। ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বাফুফের চিঠিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বুধবার ফাইনাল খেলবে বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বসুন্ধরা কিংস বাফুফেকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা মাঠে না নেমেই ট্রফি মোহামেডানের হাতে তুলে দিতে চায়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) পাঠানো এক চিঠিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বসুন্ধরা কিংস। ক্লাবটির দাবি, সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কারণে তারা ফাইনাল খেলতে আগ্রহী নয়। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ মোহামেডানকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার অনুরোধও জানানো হয়েছে ফেডারেশনের কাছে। বসুন্ধরা কিংসের টেকিনিক্যাল ডাইরেক্টর ও বর্তমানে প্রধান কোচ বায়েজিদ আলম জোবায়ের নিপুর কথা, ‘আমরা বাফুফেতে চিঠি দিয়েছি, না খেলেই ফেডারেশন কাপের ট্রফি মোহামেডানকে দিয়ে দিতে। কারণ অসম্মান হওয়ার চেয়ে এটাই ভাল।’
বিষয়টি নিয়ে বাফুফের ভেতরেও শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বাফুফে। ফেডারেশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফাইনাল আয়োজনের পক্ষেই তারা অবস্থান নিয়েছে। ফলে সবকিছু ঠিক থাকলে আজ বিকাল সাড়ে পাঁচটায় কিংস অ্যারেনায় মাঠে গড়াবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ।
অন্যদিকে কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা মোহামেডানও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্লাবটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা খেলেই শিরোপা জিততে চান। মাঠের বাইরের বিতর্ক নয়, ফুটবলের মাধ্যমেই সমাধান দেখতে আগ্রহী তারা। সাদা কালোদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সকল শর্তই মেনে নিয়েছে বাফুফে। তাই শেষ পর্যন্ত কিংস অ্যারেনায় খেলছি আমরা।’
ফাইনাল ঘিরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ চাইছেন মাঠের খেলায় নিষ্পত্তি হোক, আবার কেউ মনে করছেন দেশের ফুটবলে এমন পরিস্থিতি হতাশাজনক। বিশেষ করে মৌসুমের অন্যতম বড় আসরের ফাইনালকে ঘিরে দুই ক্লাবের অবস্থান দেশের ফুটবলের পেশাদার কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত বসুন্ধরা কিংস মাঠে নামে কি না, কিংবা কিংসের চিঠির বিপরীতে বাফুফে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর ফুটবল অঙ্গনের।