এখনও যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। এই সমস্যার সমাধানে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসেছে ফিফা ও ইরানের প্রতিনিধি দল। এরই মাঝে ইরান তাদের বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করল। চূড়ান্ত স্কোয়াড ২৬ সদস্যের হলেও বাড়তি চারজনকে নিয়ে মোট ৩০ জনের দল দিয়েছে তারা। এই দল নিয়ে আজ তুরস্কে যাবে ইরান। সেখানে ট্রেনিং ক্যাম্প করবে তারা। প্রীতি ম্যাচও খেলার কথা রয়েছে। সেখানেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদন সম্পন্ন করবে। আন্তালিয়াতে ইরান দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে খেলা নিশ্চিত করলেও অন্য ম্যাচের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হয়নি। ইরানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছেন তারকা ফরোয়ার্ড মেহেদী তারেমি। তিনিসহ প্রায় এক ডজন খেলোয়াড় ইতোমধ্যে ৫০টি বা তার বেশি ম্যাচ খেলেছেন।
বেশ অভিজ্ঞ দল নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেবে তারা। হেড কোচ আমির গালেনোই বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের আগে শেষ ট্রেনিং ক্যাম্পের জন্য ৩০ জন খেলোয়াড় বাছাই করা ছিল আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত।’ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা সর্দার আজমুনকে বাদ দিতে হয়েছে। বেলজিয়ান ক্লাবে খেলা আলাহিয়ার সায়াদমানেশ কিংবা তরুণ মিডফিল্ডার মোহাম্মদ জাভেদ হোসেনেজাদকে রাখা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইরান আরিজোনার টাকসনে তাদের ঘাঁটি গড়বে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। একই শহরে তাদের পরের ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে। সিয়াটলে গ্রুপের শেষ ম্যাচ মিশরের সঙ্গে। ইরানের প্রাথমিক দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সারদার আজমুনের। তবে সেই দলে না থাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এই তারকা স্ট্রাইকারকে ঘিরে। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের সময় সরকারের প্রতি ‘অবিশ্বস্ত আচরণের’ অভিযোগে আজমুনকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে খেলছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। প্রধান কোচ আমির গালেনোই জানিয়েছেন, সোমবার ৩০ সদস্যের দল নিয়ে তুরস্কের আনতালিয়ায় যাবে ইরান। সেখানে অনুশীলন ক্যাম্প, প্রীতি ম্যাচ এবং ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবে দলটি। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় রাখা যাবে। তাই ১ জুনের আগেই বর্তমান দল থেকে চারজনকে বাদ দিতে হবে। আনতালিয়ায় দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে চায় ইরান। এর মধ্যে আগামী ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচ ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির প্রীতি ম্যাচ আয়োজনকারী কর্মকর্তা সাম মেহদিজাদেহ। তবে এখনো বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার জন্য ইরান দল ও কোচিং স্টাফদের ভিসা ইস্যু হয়নি। যদিও ফিফা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বৃহস্পতিবার জানান, খেলোয়াড়দের ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তুরস্কে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে। তবে আনতালিয়া থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরের রাজধানী আঙ্কারায় যাওয়া এড়াতে চায় দলটি। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে টিম মেল্লি।
ইরানের ৩০ জনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক: আলিরেজা বেইরানভান্দ, সৈয়দ হোসেন হোসেইনি, মোহাম্মদ খালিফেহ, পায়াম নিয়াজমান্দ;
রক্ষণভাগ (ডিফেন্ডার): দানিয়াল এইরি, এহসান হাজসাফি, সালেহ হার্দানি, হোসেন কানানি, শোজা খলিলজাদেহ, মিলাদ মোহাম্মদী, আলী নেমাতি, ওমিদ নূরাফকান, রামিন রেজাইয়ান;
মধ্যমাঠ (মিডফিল্ডার): রুজবেহ চেশমি, সাঈদ এজাতোলাহী, মেহেদী ঘায়েদী, সামান ঘোদোস, মোহাম্মদ ঘোরবানি, আলিরেজা জাহানবাখশ, মোহাম্মদ মোহেবী, আমির মোহাম্মদ রাজাগিনিয়া, মেহেদী তোরাবি, আরিয়া ইউসেফি;
আক্রমণভাগ (ফরোয়ার্ড): আলী আলিপুর, ডেনিস দারগাহি, হাদি হাবিবিনেজাদ, আমিরহোসেন হোসেইনজাদেহ, আমিরহোসেন মাহমুদী, কাসরা তাহেরি, মেহেদী তারেমি।